নকআউটে জায়গা নিতে ব্যর্থ দক্ষিণ কোরিয়া, কোচের পদত্যাগ

নকআউটে জায়গা নিতে ব্যর্থ দক্ষিণ কোরিয়া, কোচের পদত্যাগ
দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল দলের প্রধান কোচ হং মিউং-বো। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

পদত্যাগ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হং মিউং-বো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দলটি জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের আহ্বান জানান। এরপরই পদত্যাগের ঘোষণা দেন হং।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থানধারী সেরা দলগুলোর একটি হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া পরের রাউন্ডে যাওয়ার আশা থাকলেও শনিবার সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। প্রিয় দলের এই বিদায়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।

রোববার হং সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দলের ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় তিনি প্রধান কোচ হিসেবে নিজের কাঁধে নিচ্ছেন।

এর আগে শনিবার পশ্চিম মেক্সিকোর একটি সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে হং বলেন, দল প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি, আমি দুঃখিত। জাতীয় দল ছাড়লেও তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন না জানিয়ে হং বলেন, ‘ভবিষ্যতেও দলের জন্য শুভকামনা। আমার সমর্থন সবসময় থাকবে।’

ফিফার র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩২তম স্থানে থাকা এবং তারকা খেলোয়াড় সন হিউং-মিনের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ কোরিয়া এই বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে দুইটি হার ও একটি জয় নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করে। তারা মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার পর গ্রুপ পর্বে তৃতীয় অবস্থানে ছিল। অবশ্য ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে মেক্সিকো ১৫ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ৬০তম স্থানে রয়েছে।

শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে দক্ষিণ কোরিয়া ১-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর সমালোচনা আরও তীব্র হয়। এই পরাজয়ের ফলে তারা গ্রুপ এ-তে তৃতীয় স্থানেই থেকে যায়। এবার টুর্নামেন্টে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলের মধ্যে থাকলে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ থাকত।

আরও পড়ুন

অর্থাৎ, আগে বিশ্বকাপে ৩২টি দল থাকায় প্রতিটি গ্রুপ থেকে সেরা দুই দল সরাসরি নকআউট পর্বে (রাউন্ড অব ১৬) যেত। সেখানে তৃতীয় স্থানের কোনো সুযোগ ছিল না। কিন্তু নতুন ফরম্যাটে দল বেড়ে ৪৮টি হওয়ায় নিয়ম বদলানো হয়েছে। এখন প্রতিটি গ্রুপের সেরা দুই দল সরাসরি নকআউট পর্বে যাবে। আর অতিরিক্তভাবে, গ্রুপে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্য থেকে সেরা আটটি দলও নকআউট পর্বে যাবে।

সে হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া তৃতীয় অবস্থানের একটি দল হলেও অন্য গ্রুপের তৃতীয় অবস্থানের তুলনায় পয়েন্ট তালিকায় পিছিয়ে আছে।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর হতাশ দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থকরা। ছবি: এপি/ইউএনবি

এদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, এই অপ্রত্যাশিত ফল তাকে শুধু বিভ্রান্তই করেনি, বরং চরম বিস্মিত করেছে। তিনি বলেন, ‘এটি সংগঠন ও খেলোয়াড় নির্বাচন ব্যবস্থার ব্যর্থতার ইঙ্গিত। যোগ্যতার পরিবর্তে পক্ষপাত ও আত্মীয়তাবাদ যখন কোচ নির্বাচনে প্রাধান্য পায়, তখন এমন ফলাফলই স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।’

হং প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগের শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিলেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ২০০২ বিশ্বকাপ সাফল্যের নায়ক ছিলেন। সেবার তিনি অধিনায়ক হিসেবে দলকে ঐতিহাসিক সেমিফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে ২০১৪ সালে তিনি কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দলটি গ্রুপ পর্বই পার হতে পারেনি এবং একটি ম্যাচও জিততে পারেনি।

২০২৪ সালে তাকে আবার একই পদে নিয়োগ দেওয়া হলে ব্যাপক সমালোচনা ও জনরোষ দেখা দেয়। অনেক সমর্থকের অভিযোগ ছিল, ফুটবল ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ প্রভাবশালী মহল বিদেশি ও কঠোর যাচাই-বাছাই করা প্রার্থীদের উপেক্ষা করে নিজেদের ঘনিষ্ঠজনকে কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছে।

রোববার হং বলেন, এই দায়িত্ব গ্রহণ করা তার জন্য সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। ম্যাচের সব সিদ্ধান্তও হয়তো সঠিক ছিল না, তবে প্রতিটি সিদ্ধান্তই তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলের স্বার্থ মাথায় রেখে নিয়েছেন।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া পুলিশ জানিয়েছে, হং দেশে ফেরার সময় ইনচন বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অনলাইনে হংকে লক্ষ্য করে এরইমধ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর এই সতর্কতা নেওয়া হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad