ভ্যান্সের বক্তব্যে সমঝোতার ইঙ্গিত, পারমাণবিক ইস্যুতে অটল ইরান

ভ্যান্সের বক্তব্যে সমঝোতার ইঙ্গিত, পারমাণবিক ইস্যুতে অটল ইরান
ইরানের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জেডি ভ্যান্স। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

সুইজারল্যান্ডে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনা পরবর্তী চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির জন্য ভালো ভিত্তি তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটনের সঙ্গে এখনো পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা শুরু হয়নি।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তি আলোচনার পর সোমবার থেকে ৬০ দিনের জন্য ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে নবগঠিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় প্রথম দফার আলোচনার পর লেবাননে ইসরায়েলি সংঘাতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

এর আগে রোববার মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে বলে শঙ্কা জানিয়েছিলেন বিশ্লেষকরা। লেবাননে ইসরায়েলি হামলা জোরদার করার পর ইরান পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, যদি তেহরান ওই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে যুদ্ধ আবার শুরু হতে পারে।

তবে ইরানকে অর্থনৈতিক স্বস্তি দিতে চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় সোমবার থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত বন্দর, তেল এবং পেট্রকেমিক্যাল পণ্যসহ ইরানের ওপর সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকে ওই জলপথে তেলবাহী জাহাজের চলাচল বাড়তে শুরু করে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও আবার কমতে থাকে।

মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে জেডি ভ্যান্স। ছবি: এপি/ইউএনবি

চুক্তি সইয়ের পর থেকেই ইতিবাচক অবস্থান বজায় রাখা জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘তেহরান আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের তাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে এবং বিদেশে জব্দ থাকা সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও যুদ্ধবিরতি তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো গড়ে তুলতে রাজি হয়েছে।’

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সফল চূড়ান্ত চুক্তির জন্য খুবই শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছি।’

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে বলেন, ‘ইরান এখনো পারমাণবিক বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা করেনি এবং নতুন কোনো অঙ্গীকারও দেয়নি।’

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ‘ইরান তাদের কাছে থাকা অস্ত্র পরিদর্শনের অনুমতি দিতে রাজি হবে। তাদের রাজি হতে হবে যেন পারমাণবিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।’

পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ইরান যদি চুক্তি মেনে না চলে অথবা সঠিক আচরণ না করে, তাহলে যা প্রয়োজন আমি তাই করব।’

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকেই ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার পরিদর্শন সীমিত করে দেয়। ফেব্রুয়ারিতে আবার যুদ্ধ শুরু হলে তারা পরিদর্শন পুরোপুরি স্থগিত করে। তবে তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

সুইজারল্যান্ডে শান্তি আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন আব্বাস আরাগচি। ছবি: এপি/ইউএনবি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির জন্য ছাড়, বিদেশে জব্দ থাকা কিছু সম্পদ মুক্ত করা এবং ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর বিষয়ে তারা অগ্রগতি অর্জন করেছে।

জেডি ভ্যান্স বলেন, হোয়াইট হাউসের দূত ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার একটি প্রক্রিয়া প্রস্তাব করেছেন, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার যৌথভাবে ইরানের মুক্ত হওয়া অর্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখবে। সেই অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা, সয়াবিন ও গম কেনা হবে।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যে অর্থ ছাড় দিচ্ছি, তা শেষ পর্যন্ত আমাদের কৃষকদের কাছেই যাবে।’

তবে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই এবং মুক্ত হওয়া অর্থের অন্তত একটি অংশ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকা অন্য পণ্য কেনার জন্যও ব্যবহার করা যাবে।’

এদিকে সুইজারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে জেডি ভ্যান্স আলোচনা শেষ করলেও সপ্তাহজুড়েই দুই দেশের অন্য প্রতিনিধিদের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad