‘গুপ্ত’ নিয়ে ‘তপ্ত’ সংসদ

‘গুপ্ত’ নিয়ে ‘তপ্ত’ সংসদ
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেছেন, সরকারকে নাজেহাল করতে চক্রান্ত চালাচ্ছে বিরোধী দল। তিনি বলেন, ‘সংসদে বিরোধী দলের সদস্যরা যে আচরণ দেখাচ্ছেন, তাতে মনে হচ্ছে তারা আগামী দিনে বাংলাদেশে সুস্থ ধারার রাজনীতি করতে দেবে না। এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে।’

বিরোধী দলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলে দিতে চাই, আমাদের যারা ভোট দিয়েছে তারা আঙুল চুষবে না বা বসে থাকবে না। তারা প্রতিবাদ করবে; আমাদের ভোটাররা হাত গুটিয়ে তাকিয়ে থাকবে না।’

বুধবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, ‘বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছে। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, আমাদের বিরোধী দলের ভাইয়েরা সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারকে নাজেহাল করার চক্রান্তে অবতীর্ণ হয়েছেন, যা একটি সুস্থ দেশে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘তারা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধকে মেনে নিতে পারেনি। যারা একাত্তরকে মেনে নিতে পারে না, তারা বাংলাদেশের উন্নয়নও চাইতে পারে না। সেই মানসিকতা থেকেই তারা আজ সদ্য গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে।’

আরও পড়ুন

স্পিকারকে সম্বোধন করে তিনি চট্টগ্রামের একটি ঘটনার অবতারণা করেন। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর শিবিরের হামলার কারণ ছিল কেবল গুপ্ত শব্দটি। ছাত্রদল দেওয়ালে গুপ্ত লিখেছে বলেই তাদের ওপর হামলা করে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হানা হয়েছে। আজ বিরোধী দলের ভাইয়েরা ক্ষিপ্ত হয়ে সংসদে আমাদের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিতে চাইছেন এবং ফ্যাঁসিস্টদের মতো কণ্ঠ চিপে ধরতে চাইছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাদের সবিনয়ে অনুরোধ করব সরকারকে সাহায্য করতে। দেশকে অস্থিতিশীল করা ঠিক হবে না। আপনারা আসুন, আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই।’

এ সময় সংসদে হট্টগোল সৃষ্টি হলে স্পিকার বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ থাকতে পারে এবং সবার কথা সবার পছন্দ নাও হতে পারে। তবে তিনি সংসদ সদস্যদের ধৈর্য ধরে শোনার আহ্বান জানান এবং জানান যে বক্তব্যের মাধ্যমেই পাল্টা জবাব দেওয়া সম্ভব।

পরবর্তীতে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বক্তব্যকে ‘অসংসদীয়’ আখ্যা দিয়ে তা এক্সপাঞ্জ (কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া) করার দাবি জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “জনগণ বসে থাকবে না” বলার মাধ্যমে তিনি কি জনগণকে বিশৃঙ্খলার দিকে উসকানি দিচ্ছেন? এগুলো কোনোভাবেই সংসদীয় আচরণ নয়।’

জবাবে স্পিকার বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা করে দেখব, যদি কোনো অসংসদীয় ভাষা থাকে তবে তা এক্সপাঞ্জ করা হবে। তবে রাজনীতিতে ‘আমরা চুপ করে থাকব না’—এ জাতীয় ভাষা দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আপনারা আপনাদের বক্তব্যের সময় এর যথাযথ জবাব দিতে পারবেন, কিন্তু অন্যের বক্তব্যের সময় বিঘ্ন ঘটাবেন না।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর