চবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

চবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্র শিবির পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির।

মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। মিছিলটি জিরো পয়েন্ট থেকে সোহরাওয়ার্দী হল হয়ে এ এফ রহমান হলের গেইট দিয়ে প্রবেশ করে আলাওল হলের সম্মুখ দিয়ে ২ নাম্বার গেইট গিয়ে শেষ হয়।

এরপর রাত সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকেই বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে ছাত্রশিবির। সোহরাওয়ার্দী হল হয়ে আলাওল হলের সামনে দিয়ে প্রবেশ করে নিরাপত্তা দপ্তরের রাস্তা পার হয়ে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে দিয়ে পুনরায় জিরো পয়েন্টে গিয়ে মিছিল শেষ হয়।

ছাত্রদলের মিছিলে নেতাকর্মীরা ‘গুপ্তদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’, ‘গুপ্তদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

মিছিল শেষে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিনের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়।

তিনি বলেন, ‘যারা আগের বিভিন্ন সময় গুপ্তবেশে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করেছে, তারাই আজকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েছে। আমরা বলতে চাই এটা ৯০ এর রগকাটার যুগ নয়। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে গুপ্তদের কালো হাত গুড়িয়ে দিব।’

আরও পড়ুন

‘গুপ্তদের’ আইনের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের এই কর্মসূচি থেকে গুপ্তদের রাজনীতি কবরস্থ ঘোষণা করা হলো।’

ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: টাইমস

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘রগকাটা সন্ত্রাসীরা সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের উপর হামলার প্রতিবাদে আমাদের এই কর্মসূচি। আমরা বাংলাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই। আমরা প্রশাসনের কাছে গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানাই।’

‘বিশ্ববিদ্যালয় এখনো বৈষম্যমুক্ত হয়নি’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন রাজাকার আলবদররা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আছে তাদের দ্রুত অপসারণ করুন না হয় ছাত্রদল তাদের প্রতিহত করবে।’

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘সিটি কলেজে দেয়াল লিখনে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ নামে লিখন ছিল। সেখানে কারা যেন ছাত্র কেটে ‘গুপ্ত গুপ্ত’ লিখেছিল। সেটা গুপ্তদের পছন্দ হয়নি তাই তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেছে। আমরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, আমরা অনেক নরম আচরণ করেছি আর নয়। আমরা আর কোনো গুপ্ত রাজনীতি মেনে নিব না।’

অন্যদিকে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল শেষে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছ’, ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘ছাত্রদলের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘বিচার চাই বিচার চাই, সন্ত্রাসীদের বিচার চাই’, ‘গুপ্ত বলিস কাদেরকে, তুই ছিলি লন্ডনে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: টাইমস

চাকসুর আবাসন ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক ও শিবিরের প্রচার সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞার সঞ্চালনায় সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খালেদ বলেন, ‘বিগত সময়ে সাধারণ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এরপর প্রতিটি ক্যাম্পাসে তারা রক্ত নিয়ে খেলা করেছে। আজ সেই ছাত্রলীগ দেশ থেকে নিষিদ্ধ। আজ একজন ইঞ্জিনিয়ারিং করে সংসদে গিয়ে চুপ করে বসে আছে, আর তার অনুসারীরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। আঘাত এলে তার পাল্টা আঘাত আসবে। আমরা শিক্ষিত সমাজসহ সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন।’

চাকসুর ভিপি ও শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, ‘এই হামলায় শুধু ছাত্রনামধারী ক্যাডাররাই ছিলেন না; যারা শেখ হাসিনার পক্ষে ছিলেন, তাদের ভাড়া করে এমন কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম সবাই সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে মিলেমিশে থাকবে। একটি আদর্শ পরিবেশ ও সমাজ গড়ার জন্য আমরা ৫ আগস্ট লড়াই করেছি। এদেশ নিরাপত্তা চায়, শিক্ষা চায়, দুর্নীতি চায় না। কিন্তু আপনাদের নেতা ‘গুপ্ত’ নামে একটি শব্দ আবিষ্কার করেছেন। এ শব্দ ব্যবহার করে আবার ক্যাম্পাস উত্তপ্ত করার চেষ্টা করবেন না। আপনি এত বছর গুপ্ত অবস্থায় কোথায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী?’

সিটি কলেজের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এক ক্যাম্পাস থেকে অন্য ক্যাম্পাসে গেলে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না। আমরা সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতি চাই, ট্যাগিংয়ের রাজনীতি চাই না।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর