৫ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি

৫ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
ফাইল ছবি।
Advertisement
Advertisement

কক্সবাজার থেকে পাঁচ বাংলাদেশি জেলেকে ট্রলারসহ ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মি। টেকনাফের নাফ নদী সংলগ্ন শাহপরীর দ্বীপের কাছে বঙ্গোপসাগরের মোহনা নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে তাদের আটক করে নিয়ে যায়।

অপহরণ হওয়া জেলেরা হলেন টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার মৃত সৈয়দ আলমের ছেলে শাহ আলম (২০), মৃত নজু মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন, মৃত মকবুল আহমেদের ছেলে মো. আব্বাস (৪০), আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল সাহেদ (১৮) এবং মৃত মো. হোসেনের ছেলে মো. ইউনুস (৪০)।

ট্রলার মালিক শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ ধরে তার ট্রলারটি পাঁচ জেলেসহ ঘাটে ফিরছিল। শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় পৌঁছাতে রাত হয়ে যাওয়ায় জেলেরা ট্রলার নোঙর করে সেখানে অবস্থান নেন। এ সময় হঠাৎ স্পিডবোটে করে এসে আরাকান আর্মির সদস্যরা ট্রলারসহ জেলেদের আটক করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় জেলেদের পরিবারে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

চট্টগ্রাম জোনের কোস্ট গার্ডের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আকিব বলেন, পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তারা শুনেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। জেলেদের দ্রুত ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।

আরও পড়ুন

এর আগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আরাকান আর্মির জিম্মিদশা থেকে বঙ্গোপসাগর থেকে আটক ৭৩ জেলেকে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়। এদের মধ্যে ৬৬ জন বাংলাদেশি এবং ৭ জন এফডিএমএন (রোহিঙ্গা) জেলে ছিলেন।

বিজিবি জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মোট ১২৪ জন জেলেকে আটক করেছিল আরাকান আর্মি। বিজিবির টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের প্রচেষ্টায় বিভিন্ন সময়ে বেশিরভাগ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাকি জেলেদেরও ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

২০২২ সালের শেষ ও ২০২৩ সালের শুরুতে মিয়ানমার জান্তা সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ বন্ধ থাকলেও ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭১ কিলোমিটার এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি জানায়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad