পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১০ হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং আরও ১ হাজার ৮০০ জনকে প্রত্যাবাসনের জন্য ১২টি হোল্ডিং সেন্টারে (আটক কেন্দ্র) রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মঙ্গলবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ১০ হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠিয়েছি এবং আরও ১ হাজার ৮০০ জনকে ফেরত দেওয়ার জন্য ১২টি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। আমরা প্রতিদিন অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠাচ্ছি।’ ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া’র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে নাগরিকদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, `ধর্ম নির্বিশেষে দেশের কোনো নাগরিকেরই চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই।’ তিনি আরও যোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, কারণ এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত।
যারা স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়তে চান, তাদের জন্য কোনো বাধা নেই উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, `ইতিমধ্যে অনেক অভিবাসী হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। যারা স্বেচ্ছায় চলে যেতে চান, তারা যেতে পারেন।’
শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, তার সরকার বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফের কাছে ১৪২ একর জমি হস্তান্তর করেছে।
আগের সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আগের সরকার কেন বিএসএফকে জমি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল? হয়তো তাদের ভোট ব্যাংক বাঁচানোর জন্য। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে বিএসএফের হাতে ১৪২ একরের বেশি জমি তুলে দিয়েছি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সীমান্তের ৬০০ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া দেওয়া হবে।’
বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ২,২১৬.৭ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে ১,৬৪৭.৬৯ কিলোমিটার সীমান্তে ইতিমধ্যে বেড়া দেওয়া হয়েছে। বাকি ৫৬৯.০৪ কিলোমিটারের মধ্যে ১১২.৭৮ কিলোমিটারে ভৌগোলিক কারণে বেড়া দেওয়া সম্ভব নয় এবং ৪৫৬.২২ কিলোমিটারে বেড়া দেওয়া সম্ভব। এই ৪৫৬.২২ কিলোমিটারের মধ্যে গত বছর তৃণমূল সরকার মাত্র ৭৭.৯ কিলোমিটার জমি হস্তান্তর করেছিল। নতুন সরকার বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করতে বিএসএফের কাছে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে।


