খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশু রিয়াজুল ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। গত রোববার বিকালে শলুয়া ঘোনার দাঁড়া এলাকার হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশু রিয়াজুলকে মাদ্রাসার পাশে গরু বাঁধার খুঁটির সঙ্গে পায়ে লোহার শিকল বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। যে বয়সে তার দৌড়ে বেড়ানোর কথা, সেই বয়সেই তাকে এমন অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর বাবা ছেলেকে হাফেজ বানানোর আশায় স্থানীয় হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসায় ভর্তি করান। তবে অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিন শিশুটিকে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজের পাশাপাশি গরু-ছাগল চরানোসহ বিভিন্ন কাজে বাধ্য করতেন। আপত্তি জানালে তাকে মারধরও করা হতো বলে দাবি পরিবারের।
শিশুটির মা রত্না বেগম জানান, রিয়াজুল প্রায়ই মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি আসত। ঘটনার দিন বিকালে তাকে মাদ্রাসা থেকে আনতে গিয়ে খুঁজে না পেয়ে পরে মাদ্রাসার পাশেই শিকলবন্দি অবস্থায় দেখতে পান শিশুটির নানা।
ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আসলাম উদ্দিন রিয়াজুলকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা ও মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় শিশুটির মা রত্না বেগম আড়ংঘাটা থানায় শিশু আইন ১৩ ধারায় মামলা করেছেন।
আড়ংঘাটা থানার ওসি মো. হালিমুর রহমান বলেন, ‘শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শিশু আইনে মামলা হয়েছে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতা শুধু শারীরিক নয়, মানসিকভাবেও গভীর প্রভাব ফেলে। রিয়াজুলের পা থেকে শিকল খুলে গেলেও, সেই ভয় ও ট্রমা দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে।


