পল্লবীর আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু। তিনি জানান, অপর আসামি স্বপ্না হত্যায় তার স্বামী সোহেলকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছেন।
রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং সাক্ষ্য আইনের ১০৬ ধারার আলোকে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের সম্পৃক্ততা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় প্রচলিত আইন, রীতি ও বিচারিক নজিরও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
পাবলিক প্রসিকিউটর যুক্তিতর্কে বলেন, ‘আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের ফ্ল্যাট থেকেই রামিসা আক্তারের মাথাবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতর তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়েছে, যা সাক্ষীদের জবানবন্দিতে প্রমাণিত হয়েছে।’
তিনি আদালতকে জানান, সাক্ষ্য আইনের ১০৬ ধারা অনুযায়ী কোনো বিশেষ ঘটনা যদি কেবল নির্দিষ্ট ব্যক্তির জ্ঞাতসারে ঘটে, তবে সেই ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়ও ওই ব্যক্তির ওপর বর্তায়। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের আলোকে তিনি যুক্তি দেন, রামিসা তাদের ফ্ল্যাটে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়নি—এটি প্রমাণ করার আইনগত দায়িত্ব আসামি সোহেল রানা ও ঘটনাস্থল থেকে আটক স্বপ্না খাতুনের ওপর ছিল।
রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, ১০৬ ধারার প্রয়োগের পাশাপাশি মামলার পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করেন।
আদালত জানায়, স্বপ্না খাতুন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে শিশুটিকে ধর্ষণ, হত্যা, মরদেহ গুমের চেষ্টা এবং জানালার গ্রিল কেটে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করার মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা ও আলামত নষ্ট করার অপরাধে জড়িত ছিলেন।
আদালতের মতে, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য, আলামত এবং অন্য প্রমাণ বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট- রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে হত্যা করার ঘটনায় সোহেল রানা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন এবং স্বপ্না খাতুন তাকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছেন। ফলে উভয় আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
অপরাধীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও তথ্য প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ ও স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


