নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত সংসদীয় আসনের সীমানার চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে আইন অনুযায়ী কোনো আদালত বা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘সীমানা নিয়ে আন্দোলন বা বিক্ষোভ করেও কোনো লাভ হবে না। কমিশন প্রশাসনিক অখণ্ডতা, ভৌগলিক এলাকা এবং সর্বশেষ আদমশুমারিকে ভিত্তি করে নিরপেক্ষভাবে কাজটি শেষ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কারা আন্দোলন করছে, কেন করছে, কী বলতে চাইছে—এখনো আমরা স্পষ্ট নই। আঞ্চলিকতা, রাজনৈতিক কিংবা স্থানীয় কারণ থাকতে পারে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার ৩০০ আসনের চূড়ান্ত সীমানার তালিকা প্রকাশ করে ইসি। এতে প্রায় ৫২টি আসনে পরিবর্তন আনা হয়। গাজীপুরে একটি আসন বাড়ানো হলেও বাগেরহাটে একটি আসন কমানো হয়েছে। এই সীমানাতেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে আসন সীমানা নিয়ে গাজীপুরে আনন্দ মিছিল হলেও বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও আন্দোলন চলছে।
মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ শতভাগ অনুকূলে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি কমিশনের নজরে আসেনি যা নির্বাচনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।’
তফসিল ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগে সুনির্দিষ্ট তারিখ বলা সম্ভব নয়।’
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (আরপিও) সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘আমরা যে প্রস্তাব করেছি, তা আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের পরই চূড়ান্ত হবে। সেখানে সংবিধান বা প্রচলিত আইন-বিধির সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় আছে কি না তা যাচাই করেই অনুমোদন দেওয়া হবে।’
অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রোডম্যাপে রয়েছে যে এ মাসের শেষ দিকে আলোচনা শুরু হবে। আশা করছি, পরবর্তী কমিশন সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’
গাজীপুরে আসন বাড়ানো আর বাগেরহাটে কমানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতেই এই সমন্বয় করা হয়েছে। গাজীপুরে ভোটার গড়ের চেয়ে বেশি, বাগেরহাটে কম। গড় ছিল প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার ভোটার। সে হিসেবে বাগেরহাটে একটি আসন কমানো হয়েছে।’


