সিলেটের সব পেট্রোল পাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

সিলেটের সব পেট্রোল পাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ
অনির্দিষ্টকালের জন্য পাম্পগুলোতে কার্যক্রম বন্ধ। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

অযৌক্তিক জরিমানা ও নানাভাবে হয়রানির অভিযোগে সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল পাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন মালিকরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পাম্পগুলোতে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহনের চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীরা।

বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউশন এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন আহমেদ এ কর্মসূচির ডাক দেন।

বৃহস্পতিবার সকালে হুমায়ূন আহমেদ বলেন, ‘বুধবার অযৌক্তিকভাবে আমাদের ছয়টি পাম্পকে জরিমানা করা হয়েছে। একটি সাধারণ কারিগরি বিষয় প্রশাসন বুঝতে চাইছে না। পাম্পের রিজার্ভার একেবারে নিচে নেমে গেলে মেশিন দিয়ে তেল সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। কিন্তু এই বিষয়টি আমলে না নিয়ে “তেল থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ করা হচ্ছে না” এমন অভিযোগে জরিমানা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক মালিক বাধ্য হয়ে একটি ট্যাঙ্ক-লরির তেল দিয়ে একাধিক পাম্প চালানোর চেষ্টা করছেন উল্লেখ করেন তিনি। তবে সেখানেও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন অজুহাতে জরিমানা করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে জানান তিনি।

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় একটি জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সভায় পেট্রোল পাম্প, সিএনজি পাম্প ও ট্যাঙ্ক-লরি মালিকরা অংশ নেবেন। পরে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের কথাও রয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কর্মসূচি জানানো হবে।

আরও পড়ুন

পাম্প মালিকদের অভিযোগ, পাম্পে ট্যাগ অফিসার বসানো, বিভিন্ন সংস্থার ঘনঘন হিসাব তলব, পুলিশ মোতায়েন এবং কয়েকটি পাম্পে বড় অঙ্কের জরিমানা আদায়ের প্রতিবাদে তারা তেল বিক্রি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সিএনজি ও এলপিজিসহ কোনো পাম্প পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলেও দাবি তাদের।

এ সময় পাম্প বন্ধ থাকায় সকাল থেকেই তেল না পেয়ে বিভিন্ন যানবাহনকে ফিরে যেতে দেখা গেছে। অনেক পাম্পে চালকরা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলেও কাউকে তেল বা গ্যাস দেওয়া হচ্ছে না। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে যানবাহন সংকট তৈরি হয়ে জনদুর্ভোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাইফুল নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক জানান, পাম্প বন্ধ থাকলে দুপুর পর্যন্ত কিছু গাড়ি চলতে পারলেও এরপর আর কোনো যানবাহন চলবে না। হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষ বিপদে পড়বে।

নগরের আম্বরখানা এলাকার এক পাম্পকর্মী শহীদ উল্লাহ জানান, ঘোষণার পর থেকেই পাম্প বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকে অনেকেই তেল ও গ্যাস নিতে আসছেন, কিন্তু কাউকে দেওয়া হচ্ছে না।

এর আগে বুধবার দুপুরে সরকার নির্ধারিত সীমার বেশি পেট্রোল মজুদ রাখার অভিযোগে নগরের কয়েকটি পাম্পকে জরিমানা করা হয়। সিলেট জেলা প্রশাসন ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে এ জরিমানা আদায় করা হয়।

এ ঘটনায় পাম্প মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। সন্ধ্যা থেকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় রাতেই বৈঠক করে পাম্প মালিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad