রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার সোয়া দুই একর সরকারি জমি দখল, ভাঙচুর, লুট, ক্ষতিসাধন ও কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
সাভার উপজেলা মডেল মসজিদ লাগোয়া ওই জমিটি দখলে নিয়েছেন স্থানীয় শতাধিক হকার। জমিটির বাজার মূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
অভিযোগ উঠেছে টিনের সীমানা প্রাচীর ভেঙে জমিটি দখলে পৌরসভার বুলডোজার ব্যবহারের করেছেন হকাররা।
বুধবার সাভার মডেল থানায় বাগধনিয়া ভূমি কার্যালয়ের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জয়দুল হোসেন বাদী হয়ে হকারদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এতে ১৫০ হকারকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার নথিতে প্রমাণ হিসেবে তিনি দখলকৃত জমির বর্তমান অবস্থার আটটি স্থির চিত্র (ছবি) সংযুক্ত করেছেন।
এ ছাড়া সরকারী জায়গা দখলে সাভার পৌরসভার বুলডোজার ব্যবহারের দায়ে কনজারভেন্সি ইন্সেপেক্টরকে বুধবার শোকজ করা হয়েছে।
শোকজের জবাব নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম।
মামলার আবেদনে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জয়দুল হোসেন বলেন, সাভার মডেল থানার ছোট বলিমেহের মৌজায় সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত দুই একর ১৭ শতাংশ জমিতে টিনের সীমানা প্রাচীরে ঘেরাও দেওয়া ছিল।
হর্টিকালচার সেন্টার ও রাজালাখ ফার্ম এলাকার ওই জমিতে গত সোমবার দুপুরে ১৪০ থেকে ১৫০ জন হকার সংঘবদ্ধভাবে সেখানে গিয়ে প্রায় ১০০ ফুট টিনের প্রাচীর ভেঙে নিয়ে যান। যার আনুমানিক মূল্য ৪০ হাজার টাকা। এ ছাড়া লুটের ওই ঘটনায় সরকারের প্রায় আট লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়, ঘটনাস্থলে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত হলে অভিযুক্তরা মারমুখী আচরণ করে এবং সরকারি জমিতে ব্যবসা পরিচালনায় বাধা দিলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেয়।
উল্লেখিত জমিতে ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও প্রস্তাবিত উপজেলা ভূমি অফিস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ভূমি প্রশাসন।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, সরকারী জমি দখল চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং টিন উদ্ধারে পুলিশ সদস্যরা কাজ করেছেন।
সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভার সরকারি বুলডোজার ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কনজারভেন্সি ইন্সেপেক্টর মো. সেলিম আহম্মেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তাকে আজই শোকজ করার পর ৩দিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।’
আগামী সোমবার (১৮ মে) এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে পৌর কর্মকর্তার জবাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানিয়ে পৌর প্রশাসক বলেন, ‘তদন্ত কমিটির মতামতের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


