জাতীয় সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সাইবার সুরক্ষা আইনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিলে অধিদপ্তরের সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতা ও নিজস্ব হাজতখানাসহ ডগ স্কোয়াড গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে, সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে জুয়াসংক্রান্ত ধারাটি বিলুপ্তির প্রস্তাব আনা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬ এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল, ২০২৬ উত্থাপন করেন।
পরে বিল দুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিলে অধিদপ্তরকে ‘পোশাক ও আগ্নেয়াস্ত্র সজ্জিত জনবল সংবলিত একটি বিশেষায়িত সংস্থা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি অধিদপ্তরের জন্য পৃথক হাজতখানা, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ শাখা, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ সেল এবং নিজস্ব ডগ স্কোয়াড গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কর্মকর্তা, কর্মচারীদের কৃতিত্ব ও বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ পদক ও পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিলে সাইবার সুরক্ষা আইনের ২০ ধারা বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, জুয়া ও বেটিংসংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে পৃথক ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ায় একই বিষয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে পৃথক বিধান রাখার প্রয়োজন নেই।
বিল উত্থাপনকে কেন্দ্র করে সংসদে কিছু সময় আলোচনা হয়। একজন সংসদ সদস্য আপত্তি জানাতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বিধি অনুযায়ী বিল উত্থাপনের পর্যায়ে আপত্তির সুযোগ সীমিত বলে উল্লেখ করেন।
পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বিলের ক্ষেত্রে একজন সংসদ সদস্য তার অধিকার ও দায়িত্বের জায়গা থেকেই কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্পিকার যে খণ্ডন করেছেন, তা আগে স্পষ্টভাবে বলা হয়নি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিলটি কেবল উত্থাপন করা হয়েছে; সংসদীয় কমিটিতে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় সদস্যরা মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন।


