বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেট যাবেন। সেখানে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহ পরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। সফরসূচি অনুযায়ী, তারেক সিলেট থেকে নির্বাচনের প্রচার কাজ শুরু করবেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সিলেট বিএনপির উদ্যোগে ওই দিন বিকালে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রথম ভাষণ দেবেন তিনি। এই মাঠের মঞ্চে সিলেট বিভাগের বিএনপির মনোনীত সকল প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন তারেক।
সিলেট থেকে সন্ধ্যায় সড়কপথে ঢাকায় ফেরার সময় তিনি বিভিন্ন স্থানে আসন্ন সংসদ নির্বাচনী জনসভা ও পথসভায় অংশ নেবেন।
এই কর্মসূচিতে রয়েছে সুনামগঞ্জ-৪ আসন (বালুর মাঠে) নুরুল হক নুরুলের নির্বাচনী জনসভায় এবং সুনামগঞ্জ-৩ আসন (শান্তিগঞ্জে) এম কয়ছয় আহমদ, সুনামগঞ্জ-৫ আসন (গোবিন্দগঞ্জ বাজারে) কলিমউদ্দিন আহমদ মিলন, সিলেট-২ আসন (লামাকাজী বাজারে) তাহসীনা রুশদী লুনা এবং সিলেট-৩ আসনে আব্দুল মালেক এর পথসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।
এ ছাড়া, মৌলভীবাজার এবং শ্রীমঙ্গলে একটি নির্বাচনী পথসভায় তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।
ভোটের প্রচার শুরুর বিষয়ে শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তারেক বলেছেন, সামনে নির্বাচন। আমি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। স্বাভাবিকভাবে আমরা ২২ জানুয়ারি থেকে আমাদের সব রকম পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে যাব। যদিও ভোটের প্রচারের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ২১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ করবে নির্বাচন কমিশন। পরের দিন ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার।
ঐতিহ্যগতভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করে বিএনপি। এবারের নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।
এর আগে, সিলেটের এক সভা থেকে বের হয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, তারেক রহমান ২২ জানুয়ারি সিলেট যাবেন। সেখানে শাহজালাল (রহ.) ও শাহ পরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন।
তিনি আরও বলেছেন, ইতঃপূর্বেও সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছিল। এবারও সিলেট থেকে প্রচার শুরু হবে।
অন্যদিকে, ৯ জানুয়ারি রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠক শেষে তারেকের উত্তরাঞ্চলের সফর স্থগিতের কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার দেওয়া হয়।
নির্বাচনে তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনের পাশাপাশি ঢাকা-১৭ আসন থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি এ দুটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এবং তা বৈধ হয়েছে।
তবে সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর তিনি বগুড়া-৬ আসন এবং ঢাকা-১৭ আসনে দুটি এলাকার মানুষের কাছে ভোট চাইবেন বলে জানা গেছে।
বগুড়া-৬ নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাওয়াকে কেন্দ্র করে তিনি উত্তরাঞ্চল সফর করবেন। ওই সফরে অন্তত ১২ থেকে ১৩টি জেলায় যাবেন তিনি। সেখানে টাঙ্গাইল জেলায় আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত করবেন। বগুড়ায় খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
এ ছাড়া দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর জেলায় ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুথানে যারা শহীদ হয়েছেন; তাদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করবেন।
এদিকে ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড এবং ঢাকা ক্যানটনমেন্ট থানা এলাকা নিয়ে গঠিত। এ আসনের আওতায় গুলশান, বনানী, নিকেতন, মহাখালী, বারিধারা, শাহজাদপুর এবং ঢাকা সেনানিবাসের একটি অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শিগগির তিনি এসব এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে নামবেন। তার নির্বাচনী প্রচারের জন্য উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। ভোটারের কাছে গিয়ে তিনি ভোট চাইবেন বলে জানা গেছে।
আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা মেনে প্রচারণার জন্য নির্বাচন কমিশন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ভোট শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করতে হবে।


