ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির এ মুহূর্তে নাম্বার ওয়ান নাম শাকিব খান। ২০০৮ এর পর থেকে তিনি এককভাবে ইন্ডাস্ট্রি নিয়ন্ত্রণ করছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে শাবনূর, পপি, মুনমুন, ময়ূরীর মতো নায়িকাদের ওপর নির্ভর করে তিনি ক্যারিয়ার গড়েছেন। কিন্তু ‘কোটি টাকার কাবিন’ সুপারহিট হওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে অপু বিশ্বাসের জুটি গড়ে উঠে। সে সময় থেকে তার অভিনীত ছবিগুলোর অলিখিত নীতি নির্ধারক হয়ে যান তিনি। নায়িকা, গল্প, পরিচালক, নৃত্য পরিচালক, সিনেমাটোগ্রাফার ইত্যাদিতে মাথা ঘামাতে শুরু করেন।
টাইমস অব বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপচারিতায় সাম্প্রতিক সময়ে তাকে নিয়ে ছবি নির্মাণ করা কয়েকজন প্রযোজক জানিয়েছেন, তিনি সবচেয়ে বেশি প্রভাব খাটান নায়িকা নিয়ে। তবে তাদের কেউই তাদের নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে চাননি।
অপু বিশ্বাসের প্রেম-সংসারের কারণে তার জুটি ভেঙে যাওয়ার পর তিনি বুবলীর সঙ্গে জুটি বাঁধেন। বুবলীর সঙ্গেও একই কারণে জুটি ভেঙে যায়। এরপর থেকে শাকিব একক নায়িকা নির্ভরশীলতা থেকে বের হয়ে আসেন। তিনি বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের জনপ্রিয় নায়িকাদের সঙ্গে কাজ করা শুরু করেন। এ তালিকায় রয়েছেন তানজিন তিশা, তাসনিয়া ফারিণ, জয়া আহসান, নাবিলা ও সাবিলা নূর। এছাড়া নাজিফা তুষির সঙ্গেও একটি ছবি নিয়ে আলাপ করেন তার ছবির পরিচালক।

২০২৩-এ ‘প্রিয়তমা’ ছবিটি ব্লকবাস্টার হিট হয়। সে ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন কলকাতার নায়িকা ইধিকা পাল। এরপর থেকে তিনি একের পর কলকাতার নায়িকা নিয়ে ছবি বানানোর জন্য প্রযোজক-পরিচালকদের চাপ দিতে থাকেন। সে ধারাবাহিকতায় তার বিপরীতে ‘প্রিন্স’-এ অভিনয় করেন কলকাতার অখ্যাত নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। এ ছাড়া পাকিস্তানি জনপ্রিয় নায়িকা হানিয়া আমির গত বছর বাংলাদেশে সানস্লিকের এক আয়োজনে আসলে তাকে নায়িকা বানানোর জন্য উঠে পড়ে লাগেন। তার পিড়াপীড়িতে ‘সোলজার’ প্রযোজক হানিয়ার সঙ্গে মিটিংও করেন। সে মিটিং সফল হয়নি। তবে হানিয়াকে শাকিব তার সামনের কোনো ছবিতে নায়িকা হিসেবে তিনি আগ্রহী। এছাড়া কলকাতার সিরিয়ালের জনপ্রিয় মুখ মধুমিতা সরকারের সঙ্গে ‘প্রিন্স’ নিয়ে আলাপ হলেও শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে যায়।
জানা গেছে, শাকিবের ইচ্ছেতে নায়িকা নির্ধারণ করতে গিয়ে প্রযোজক-পরিচালকরা নানা ধরণের সমস্যায় পড়ছেন। এর মধ্যে রয়েছে কলকাতার নায়িকারা অস্বাভাবিক পারিশ্রমিক চাচ্ছেন। উদাহরণ হিসেবে শোনা যায়, ইধিকা পাল শাকিবের সঙ্গে ছবি হিট হওয়ার পর তিনি ৩০ লাখ টাকা চেয়েছেন শরিফুল রাজের বিপরীতে এক ছবির জন্য। যার কারণে ছবির খরচ অতিরিক্ত বেড়ে যাচ্ছে। আবার শাকিবের পছন্দের বাইরে কোনো নায়িকা নিলে শুটিং ফাঁসিয়ে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আবার পছন্দের নায়িকা নেওয়ার পরেও সমস্যা করেছেন বলে শোনা যায়।

‘প্রিন্স’-এর নায়িকা তাসনিয়া ফারিণ শুটিংয়ের মাঝপথে কোনো এক অজানা সমস্যার কারণে ছবি ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। পরে প্রযোজকের অনুরোধে ছবিটি শেষ করেন। শোনা গেছে, শুটিং সেটে শট দেওয়া শেষে দুজনের কেউই কারো সঙ্গে কথা বলেননি।
এক প্রযোজক জানান, শাকিব ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র ‘হিট মেশিন’ হওয়ায় এধরনের স্বেচ্ছাচারিতা করছেন। অথচ ছবির শিল্পী কারা হবে তা তো নির্ধারণ করার কথা পরিচালকের। কিন্তু শাকিবের কথা না শুনলে তিনি অনেক অসহযোগিতা করেন। ফলে বাধ্য হয়ে ছবি শেষ করা ও বিনিয়োগ তুলে আনার তাগিধে তার কথা শুনতে হয়।
তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে শাকিব খানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


