ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের প্রশংসা পাচ্ছে বিদ্যা সিনহা মিম অভিনীত অরিজিনাল চলচ্চিত্র ‘লাইফলাইন’। গত ২১ জুন মুক্তি পাওয়া ছবিটি গল্প, অভিনয় এবং মানবিক বার্তার জন্য দর্শক-সমালোচকদের ইতিবাচক আলোচনায় রয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে চলচ্চিত্রটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ছবির শিল্পী-কলাকুশলী, সাংবাদিক, নির্মাতা ও বিভিন্ন অঙ্গনের অতিথিরা। প্রদর্শনী শুরুর আগে চলচ্চিত্রটির সম্পাদক ময়ূখ বারীর বাবার মৃত্যুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
প্রদর্শনী শেষে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া গ্রহণের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদ্যা সিনহা মিম। ছবিটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্না ধরে রাখতে পারেননি। ‘লাইফলাইন’-এ বাবা ও মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন খায়রুল আলম সবুজ ও মিম। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগে কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে খায়রুল আলম সবুজেরও।
চলচ্চিত্রটিতে মিম ও রেজওয়ান পারভেজের পাশাপাশি অভিনয়ের জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছেন আ খ ম হাসান। ওটিটি মাধ্যমে তাকে তুলনামূলক কম দেখা যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একজন অভিনেতা হিসেবে যেখানে কাজের সুযোগ পান, সেখানেই কাজ করেন। এ বিষয়ে পরিচালকেরাই ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।
নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে আ খ ম হাসান বলেন, পর্দায় দর্শক যেন তার ব্যক্তিসত্তাকে নয়, চরিত্রটিকেই দেখেছেন। এটিই একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এবং এর কৃতিত্ব পুরো নির্মাণদলের।
চলচ্চিত্রটির গান ‘আমারে নাও’-ও দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। কাজী আসাদের কথায় এবং জাহিদ নিরবের সুর ও সংগীতে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন ফাতিমা তুয যাহরা ঐশী। প্রদর্শনী শেষে তিনি খালি গলায় গানটি পরিবেশন করেন। ঐশী বলেন, শুরু থেকেই গানটির সঙ্গে তার গভীর আবেগের সম্পর্ক ছিল, আর সেই অনুভূতিই শ্রোতাদের কাছেও পৌঁছেছে।
চলচ্চিত্রের নির্মাতা কাজী আসাদ জানান, ভালোবাসার টানে একজন মানুষ কত দূর যেতে পারে এবং কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারে, সেই ভাবনা থেকেই নির্মিত হয়েছে ‘লাইফলাইন’। শহরের এক তরুণীর দুর্গম যাত্রার মধ্য দিয়ে ভালোবাসা, সম্পর্ক এবং মানবিক অনুভূতির এক ভিন্ন গল্প তুলে ধরা হয়েছে ছবিটিতে।
‘লাইফলাইন’-এ আরও অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, নাজনীন হাসান চুমকি, আনিসা নূর আয়াত ও ফাতেমা তুজ জোহরা ইভা।


