কাতার সরকারের মধ্যস্থতায় দোহায় দুইদিনের পরোক্ষ বৈঠক শেষ করেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে স্থানীয় সময় মঙ্গল ও বুধবার এই বৈঠক হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কাতারের মধ্যস্থতা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের ভঙ্গুর কূটনীতিতে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত মেলেনি।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, মূলত দুই সপ্তাহ আগে দুই দেশের মধ্যে ‘অন্তর্বর্তী চুক্তির’ (সমঝোতা স্মারক) আওতায় এরইমধ্যে যেসব বিষয় নিষ্পত্তি হয়েছে বলে উভয় পক্ষ দাবি করেছিল, সেগুলো নিয়েই আবার আলোচনা হয়েছে।
দোহা শান্তি আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই দেশের আলোচকরা দোহায় দুই দিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল এবং ইরানের জব্দকৃত তহবিল অবমুক্ত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। অন্তর্বর্তী চুক্তির আওতায় এই দুটি বিষয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সরাসরি বৈঠক না করে তারা কাতারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিইজেদের মতামত অপরপক্ষের কাছে পৌঁছে দেন।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৪ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৯ জুলাই তাকে দাফন করা হবে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, জুন মাসে যুদ্ধ বন্ধে সই করা সমঝোতা স্মারকসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে দোহার আলোচনা ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ অর্জন করেছে। তিনি বলেন, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকের ফলাফলের ভিত্তিতেই এই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতা নিয়ে দুই পক্ষ অগ্রগতি করছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধ শুরুর প্রধান কারণ ছিল এই পরমাণু কর্মসূচি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি ভালোভাবেই এগোচ্ছে। বৈঠকগুলো খুবই ভালো হয়েছে। দেখা যাক কী হয়।’
অবশ্য হোয়াইট হাউস যে আলোচনাকে ‘উচ্চপর্যায়ের’ বৈঠক হিসেবে উল্লেখ করেছিল, সেই আলোচনায় ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফ অংশ নেননি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জানান, ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে পরে আলোচনা হবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘অবশ্যই আমরা পরমাণু ইস্যু নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করব। তবে এটি এখনই নয়।’
ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রধান এবং দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানান, আলোচনা শেষ হয়েছে। তবে দুই পক্ষের কেউই জানায়নি, মতপার্থক্য কমাতে তারা কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে পেরেছে কি না।
তবে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দোহার এই বৈঠকে পরমাণু কর্মসূচির বিষয়টি আদৌ আলোচনায় ওঠেনি। বৈঠকটি ছিল মূলত কারিগরি বিষয়ক
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্কিন ও ইরানি আলোচকরা আলাদাভাবে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।


