ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গমুখী মানুষের ঘরে ফেরার চাপ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে যমুনা সেতু-ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চাপও বেড়েছে। তবে স্বস্তির খবর, অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলেও এখন পর্যন্ত মহাসড়কের যানজট সৃষ্টি হয়নি।
রোববার দুপুরে মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের এলেঙ্গা, রাবনা বাইপাস, নগর জলফৈ ও করটিয়া বাইপাস এলাকায় সরেজমিনে যানবাহনের বাড়তি চাপ লক্ষ্য করা গেছে।
ঈদ সামনে রেখে প্রতিদিনই বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের সংখ্যা। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে উত্তরবঙ্গের মানুষ বাড়ি ফিরছেন। এর সঙ্গে গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলোতে ছুটি শুরু হওয়ায় মহাসড়কে চাপ আরও বেড়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত যমুনা সেতু-ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ঈদের সময় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। যমুনা সেতু সংযোগ মহাসড়ক দিয়ে উত্তরাঞ্চলের ২৩ জেলার যানবাহন চলাচল করায় এ সড়কে চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে ঘরমুখো যাত্রী এবং কোরবানির পশুবাহী যানবাহনের চলাচল নিশ্চিত করতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে প্রায় ৮০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যানজট নিরসন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও পশুবাহী ট্রাকের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে মোট ৩২ হাজার ৬৪৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ১৬ হাজার ৭৫৩টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৯ লাখ ৭ হাজার ১৫০ টাকা। অন্যদিকে ঢাকাগামী ১৫ হাজার ৮৯৬টি যানবাহন থেকে আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৫০ টাকা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে গণপরিবহনের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে মোটরসাইকেলের জন্য চারটি পৃথক বুথসহ মোট ১৮টি বুথে টোল আদায় করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে যানজট এড়াতে জেলা পুলিশের ৮০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
তিনি জানান, দুর্ঘটনা এড়াতে ধীরগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ পার্কিং প্রতিরোধ এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যানবাহন বিকল বা দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দ্রুত সরাতে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সাতটি রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগে ঈদযাত্রায় মহাসড়কে বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হবে না।


