মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় দৈনিক কালবেলার মোজো রিপোর্টার রুমেল আহমেদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জেলার কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার বিকালে শরীফপুর ইউনিয়নের আমতলা বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নেতা নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের কর্মসূচি কাভার করতে ঢাকা থেকে শরীফপুরে যান রুমেল আহমেদ।
এ সময় জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহের এক পর্যায়ে কয়েকজন সাংবাদিক রুমেলকে তাদের জন্য সুবিধাজনক জায়গা ছেড়ে দিতে বলেন। তবে রুমেল আগে থেকে ওই স্থানে অবস্থান করায় জায়গা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ঘটনাস্থলেই তাকে হেনস্তা করেন।
পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় দফায় আমতলা বাজারে ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি শাহবান রশীদ চৌধুরী অনি সাংবাদিক রুমেল আহমেদকে একা ডেকে নেন। সেখানে কয়েকজন সাংবাদিক তাকে কিল-ঘুষি ও মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চ্যানেল ওয়ানের জেলা প্রতিনিধি শাহজাহান আহমদ, নিউজ টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি শেখ সিরাজুল ইসলাম, মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার মু. ইমাদ উদ-দীন, ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি শাহবান রশীদ চৌধুরী অনি এবং জনবাণীর কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি জামাল হোসেন তারেক।
ভুক্তভোগী রুমেল আহমেদ বলেন, ‘নিজ জেলায় এসে সিনিয়র সাংবাদিক পরিচয়ধারী কয়েকজনের হামলার শিকার হলাম, তাও আবার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে। তারা আমাকে ডেকে নিয়ে মারধর করেন। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার এস এম উমেদ আলীর কাছে আমাকে ক্ষমা চাইতে বলেন। এরপর আমার ওপর উপর্যুপরি কিল-ঘুষি চালানো হয়। মারধরের পর প্রথমে স্থানীয় একটি ওষুধের দোকানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিই। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।’
হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত রুবেল খান নামের এক যুবক বলেন, ‘আমি দেখলাম একজনকে সবাই মিলে মারছে। পরে এগিয়ে যাই। তারা বলাবলি করছিল আরও মারবে। এরপর আমিসহ কয়েকজন তাকে নিরাপদে সরিয়ে নিই।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন এস এম উমেদ আলী। এর আগেও ঢাকা থেকে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আছে এই গ্রুপটির বিরুদ্ধে। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এই গ্রুপটি ‘মাফিয়া গ্রুপ’ হিসেবে পরিচিত।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম শেফুল বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। তাদের বিরুদ্ধে আগেও এরকম অভিযোগ আছে। এ ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’
এদিকে ডিবিসি নিউজের ডেপুটি নিউজ এডিটর (ডিএনই) মিঠুন বিশ্বাস জানিয়েছেন, যেহেতু হামলার প্রমাণ রয়েছে, তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


