ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর ফলে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক পরিসরেও প্রভাব ফেলতে পারে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, চলমান সংকটের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তবে সর্বশেষ উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাস ও কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার। চলমান উত্তেজনা, পাশাপাশি কয়েকটি দেশে আকাশপথ বন্ধ ও ফ্লাইট স্থগিত থাকায় ভ্রমণ পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে গমনেচ্ছু অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক যাত্রাবিরতিতে পড়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে ঢাকা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিশেষ করে যেসব শ্রমিক বিদেশে কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভ্রমণ স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবেশের বিষয়ে কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
প্রভাবিত শ্রমিকদের সহায়তায় সরকার দেশীয় পর্যায়েও ব্যবস্থা নিয়েছে। ভ্রমণ বিঘ্ন অব্যাহত থাকায় দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তেহরানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইরানে অবস্থানরত কূটনীতিক, দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায়ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সরকার কূটনৈতিক আলোচনা ভেঙে পড়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্র নীতির আলোকে বাংলাদেশ সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংঘাত কোনো স্থায়ী সমাধান বয়ে আনতে পারে না। সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্যই বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র কার্যকর পথ। বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, আরও উত্তেজনা এড়ানো এবং অবিলম্বে কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশ তার ধারাবাহিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও গঠনমূলক সংলাপ জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম শনিবার সন্ধ্যায় এক জরুরি বৈঠক করেন। সেখানে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সতর্ক রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।


