সন্ত্রাসী দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সোমবার ভোর পাঁচটা থেকে সীতাকুণ্ডের এ অঞ্চলটিতে বিভিন্ন এলাকায় ভাগ হয়ে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি ও দুর্গম এই অঞ্চলটিতে অপরাধীরা নির্বিঘ্নে আত্মগোপনে থাকছিল এবং অস্ত্র মজুত করে রাখছিল। এ অঞ্চলটি অপরাধী চক্রের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে সুপরিচিত। তাই সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে এই অভিযান শুরু করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।
জেলা পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) মো. রাসেল বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুরো জেলায় যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে। সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরেও অভিযান চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেওয়া সূত্র মতে, অভিযান পরিচালনার জন্য বাহিনীকে কয়েকটি দলে ভাগ করা হয়েছে। একটি দল পাহাড়ের পাদদেশের বসতিগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে, আরেকটি দল পাহাড়ি পথ ধরে উঁচু এলাকায় অগ্রসর হচ্ছে। সম্ভাব্য পালানোর পথগুলোতেও আগেই চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, যাতে কেউ অভিযান শুরুর খবর পেয়ে এলাকা ছাড়তে না পারে।
জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অসংখ্য পাহাড়ি ছড়া, ঘন ঝোপঝাড় এবং পরিত্যক্ত ঘর রয়েছে। এসব ঘরকে অনেক সময় অপরাধীরা আত্মগোপনে থাকার জন্য ব্যবহার করে থাকে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালাচ্ছেন। কোথাও কোথাও পাহাড়ি পথ এতটাই সরু যে একসঙ্গে কয়েকজনের বেশি চলাচল করা সম্ভব নয়। ফলে ধাপে ধাপে এগিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
গত ১৯ জানুয়ারি বিকালে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গেলে র্যাব–৭ এর চার সদস্যকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় র্যাব কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব নিহত হন।
এই ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে বিশেষ নজরদারিতে রাখে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই মামলার কয়েকজন আসামি পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপনে আছে, এমন তথ্য পাওয়ার পরই এলাকাটিতে নজরদারি জোরদার করা হয়।


