আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনায় ব্রাজিলের ৪০০ ফুট পতাকা বানাতে চাঁদা দিয়েছে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকদের চিরচেনা বৈরিতা ছাপিয়ে এমনই ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেছে নওগাঁ জেলায়।
প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশের অন্য জেলার মতো নওগাঁর অসংখ্য বাড়ির ছাদে, বারান্দায় শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন দেশের পতাকা। ফুটবল উন্মাদনার জানান দিতে এবং ব্রাজিলের ফুটবল দলের প্রতি ভক্তি প্রকাশে পোরশা উপজেলা ঘাটনগর ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামের ফুটবলপ্রেমী তরুণরা নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করেছেন প্রায় ৪০০ ফুট দীর্ঘ বিশালাকার পতাকা।
তবে অবাক করা বিষয়, এই পতাকা তৈরির কাজে শুধু ব্রাজিল সমর্থকরাই নন, অংশ নিয়েছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা দলের সমর্থকরাও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ঘিরে এমন আয়োজনকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে আয়োজনটির মূল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে এর সম্প্রীতির বার্তায়।
পতাকা বানাতে বুধবার বিকালে গ্রামের ছোট-বড় সবাই মিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রায় সাড়ে আট হাজার টাকা চাঁদা তোলেন। সেই অর্থ দিয়েই তৈরি করা হয় বিশাল আকৃতির এই পতাকা।

স্থানীয় আমিনুল ইসলাম বাচ্চু মাস্টারের বাড়ি থেকে শুরু করে রাশেদা মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত পুরো সড়কজুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে সবুজ-হলুদের এই পতাকা।
যেখানে ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই সাধারণত ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও কথার লড়াই চোখে পড়ে, সেখানে কাচারীপাড়ার তরুণরা দেখালেন ভিন্ন এক উদাহরণ। ভেদাভেদ ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের মতোবিরোধ ভুলে পতাকা তৈরি ও টাঙানোর কাজে একসঙ্গে শ্রম দিয়েছেন দুই দলের সমর্থকরা।
উদ্যোক্তারা জানান, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে সর্বোচ্চ সম্মান ও অগ্রাধিকার দিয়েই তার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে ব্রাজিলের পতাকা। তারা বলছেন, ফুটবল আনন্দের, বিভেদের নয়। খেলার মাধ্যমে তারা সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই।
আর্জেন্টিনার এক সমর্থক বলেন, ‘এখানে যারা কাজ করেছি, সবাই ব্রাজিলের সমর্থক নই। আমাদের মধ্যে আর্জেন্টিনার ভক্তও আছে। কিন্তু বিশ্বকাপ মানেই আনন্দ আর মিলনমেলা। সেই আনন্দকে একসঙ্গে উদযাপন করতেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।’

ব্যতিক্রমী এই আয়োজনের প্রশংসা করেছেন পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার মর্যাদা সমুন্নত রেখে এবং প্রচলিত আইন মেনে কেউ যদি নিজের পছন্দের দলের পতাকা টাঙায়, তাতে কোনো বাধা নেই। খেলাকে ঘিরে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ অবশ্যই ইতিবাচক।’
তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রিয় দলকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, হাঙ্গামা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করা হলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।


