বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করায় চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ এনে দুই কর্মকর্তা পঞ্চম দিনের মতো অনশন কর্মসূচি পালন করছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই অনশন চলছে। তারা হলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পের সাবেক সহকারী পরিচালক তৌকির আহমেদ ও সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ এরফানুল হক।
তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।
গত শনিবার দুপুর ২টা থেকে এই অনশন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। বুধবার পঞ্চম দিনে সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পে নানা অনিয়ম হয়ে আসছে। নিয়মিত বই ক্রয় ও পাঠকসেবা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা হয়নি। এতে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের পাঠকরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’
অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পের ১৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ৬৫ থেকে ৭০ জনকে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ করে অনশনকারীরা জানান, তাদের দাবি দুটি। সেগুলো হলো চাকরিতে পুনর্বহাল এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম বন্ধ করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলে এরফানুল বলেন, ‘আমার তিন বছরের কন্যা সন্তান, খাবারের জন্য কান্না করছে। কিন্তু তার মা তাকে খাবার দিতে পারছে না।’
বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সাবেক এই কর্মকর্তা টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র অর্ধশতাধিক সহকর্মীসহ আমাকে অত্যন্ত অমানবিক এবং অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করেছে। আমাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও নীতিগত কিছু বিষয় নিয়ে আমরা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’
প্রায় ১৫ বছর ধরে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কার্যক্রমে কাজ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক সহকর্মী ২০-২৫ বছর ধরে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২৫ বছর ধরে চলমান এই কার্যক্রম হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, শুধু আমাদের বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে।’
কেন্দ্রের আর্থিক স্বচ্ছতা ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে গত বছরের ৫ জানুয়ারি প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ছয় মাস ধরে বেতন না দেওয়া, এমনকি সরকারের কাছ থেকে উত্তোলন করা বেতনের অর্থও পুরোপুরি না দেওয়ার অভিযোগ আনেন এরফানুল। বলেন, ‘সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।’
২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বেতন ২০২৪ সাল পর্যন্তও পরিশোধ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পাঠকদের সদস্যপদ বাতিল হলে জমা রাখা অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও সেগুলো ফেরত না দেওয়ার অভিযোগও আনেন তিনি। এভাবে ৭ কোটি টাকা ব্যাংকে স্থায়ী এফডিআর করে রাখার অভিযোগও এনেছেন তিনি।
‘গত এক বছরে যারা সদস্যপদ বাতিল করেছেন, তাদের কাউকেই জমার টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। অথচ এই অর্থ চাহিবামাত্র ফেরত দেওয়ার কথা।’
এসব অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে পারেনি টাইমস। কেন্দ্রের দপ্তরে কল দিলেও কেউ ফোন ধরেনি।


