সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) প্রশাসনিক অনিয়ম ও শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপাচার্য ও শিক্ষকদের একটি পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
এতে দুই পক্ষই আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অনেকেই শিক্ষককে মারধর ‘মত প্রকাশের ওপর সরাসরি আঘাত’ উল্লেখ করে দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া শিক্ষকদের একটি পক্ষ জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অযোগ্য প্রার্থী নিয়োগ, শিক্ষকদের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে আসছিলেন শিক্ষকদের একটি অংশ। এসব বিষয়ে কথা বলতে মোজাম্মেল হক উপাচার্যের কক্ষে যান শিক্ষকদের একটি অংশ। সেখানে উপাচার্যের পক্ষের শিক্ষকরাও ছিলেন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিদ্যা ও হাওর কৃষি বিভাগের অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘প্রশাসনিক অনিয়মের বিষয়ে কথা বলতে গেলে উপাচার্য ও প্রক্টরের অনুসারীরা আমার ওপর হামলা চালায়। তাদের মারধরে আমার নাক ও মুখ ফেটে রক্ত বের হয়েছে।
অন্যদিকে, উপাচার্য আলিমুল ইসলাম ও তার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, এই গোষ্ঠীটি অতীতে প্রক্টর বা রেজিস্ট্রারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিল এবং এখন তারা সেই পদগুলো ফিরে পেতে চায়।
আলিমুল ইসলাম জানান, আলোচনার সময় প্রশাসনের এক কর্মকর্তাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলা হলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি ভিডিও করতে গেলে মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয় এবং হাতাহাতির এক পর্যায়ে তাও দুই হাতের আঙুল ফেটে যায়। এই সংঘর্ষে উপাচার্য ছাড়াও আরও তিন শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন উপাচার্য।
শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে উপাচার্য জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নিয়ম মেনে এবং যথাযথ পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। মোট ছয়জন নতুন শিক্ষকের মধ্যে তিনজনই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট এবং বিশেষায়িত বিষয়ের শিক্ষক না পাওয়ায় বাকিদের বাইরে থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


