বিরোধী দলকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য দায়ী করাকে বিএনপি সরকারের রাজনৈতিক ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া গোয়েন্দা কাঠামোর ওপর নির্ভর করে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছে সরকার।
বুধবার রাজধানীর তোপখানা রোডে ১১-দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দেশপ্রেমিক বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন। ভেতরে ভেতরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখছেন।’
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিরীহ মানুষকে জঙ্গি সাজিয়ে ক্রসফায়ারে দেওয়া, রিমান্ডে নেওয়া ও আয়নাঘরে আটকে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছে। সেই সময়ের গোয়েন্দা কাঠামোর তথ্যের ওপর নির্ভর করে এখন বিরোধী দলকে দায়ী করা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়িত্ব পালন করা গোয়েন্দা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও করেন জামায়াতের এই নেতা। তার দাবি, এসব কর্মকর্তার সহায়তায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন জেলায় মিছিল করেছেন। অথচ তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বিরোধী দলকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য দায়ী করা হচ্ছে।
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এগুলো রাজনৈতিক ব্যর্থতা, অপরিপক্বতা। দূরদর্শী নেতৃত্ব থেকে সরে না এলে সাত মাসেই আপনারা পরিস্থিতি জটিল করে ফেলেছেন।’
রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনৈতিক দল পৃথক সত্তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের সমালোচনা করাকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করাই বিরোধী দলের দায়িত্ব।
সরকারি পদে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়োগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগও তোলেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে বিরোধী দল হরতাল, অবরোধ বা সহিংস কর্মসূচি পালন করেনি।
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, গণভোটে চারটি প্রশ্নে ৭০ শতাংশ মানুষ সম্মতি দিয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সনদ নিয়ে মতভেদ থাকলেও গণভোটের রায় মেনে সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের এগিয়ে আসা উচিত।
সংবিধান সংশোধন নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে বিরোধী দল প্রস্তুত বলে জানান গোলাম পরওয়ার। তবে সমঝোতার পথ বন্ধ হলে আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।


