রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন নবদম্পতি কাজী সাম্য সাইফ ও জহুরা অন্তি। মাত্র এক বছরের দাম্পত্য জীবন মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল পদ্মা নদীর অতল গভীরে। এ ঘটনায় রাজবাড়ী শহরজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কাজী সাম্য সাইফ রাজবাড়ী শহরের মহিলা কলেজের পেছনের এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী জহুরা অন্তি রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের বিয়ে হয়।
ঈদের ছুটি কাটাতে তারা রাজবাড়ীতে নিজ বাড়িতে এসেছিলেন। বুধবার বিকালে ঢাকায় ফেরার উদ্দেশে রাজবাড়ী থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটিতে ওঠেন তারা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাম্য পরিবারের একমাত্র সন্তান। ছেলে ও পুত্রবধূকে একসঙ্গে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। নিজ বাড়ির আঙিনায় পাশাপাশি রাখা হয়েছে নবদম্পতির মরদেহ। নিহত দম্পতির মরদেহ ঘিরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা।
সাম্যের চাচা কাজী শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, সাম্য পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় একটি বায়িং হাউসে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী অন্তি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করে ইন্টার্ন করছিলেন। এক বছর আগে বিয়ে হলেও গত ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ঘরে তোলা হয়। এরপর তারা ঢাকার উত্তরায় থাকতেন। ঈদ করতে তারা বাড়িতে এসেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘ছেলে আর পুত্রবধূকে হারিয়ে আমার ভাই কাজী মুকুল এখন একেবারে একা হয়ে গেছেন। সাম্য খুব ভালো ছেলে ছিল।’
একটি সুখী দাম্পত্য জীবন, অসংখ্য স্বপ্ন আর সম্ভাবনা—সবকিছুই মুহূর্তেই থেমে গেল দৌলতদিয়ার সেই দুর্ঘটনায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে আছে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী।


