বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, জাতীয় অগ্রাধিকার এবং ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ভূমিকা পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রশিক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরাই হবেন জ্ঞান ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার মূল কারিগর।
রোববার সাভারের ব্রাক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় জাতীয় প্রশিক্ষকদের জন্য আয়োজিত প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দায়িত্ব কেবল পাঠদান ও গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব প্রদান, সুশাসন সুদৃঢ় করা, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা, পাঠ্যক্রমে উদ্ভাবন আনা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের মধ্যে কার্যকর সংযোগ প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়।
এ কারণে উচ্চশিক্ষা খাতে একাডেমিক নেতৃত্ব, শিক্ষাদানের উৎকর্ষ, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং গুণগত মান নিশ্চিত করতে একটি টেকসই জাতীয় শিক্ষক উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি, যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি শুধু একটি পেশাগত উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একাডেমিক নেতৃত্ব বিকাশের একটি টেকসই কাঠামো প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ।
দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, অতীতে উচ্চশিক্ষা খাতে অবকাঠামো উন্নয়নে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও বর্তমান সরকার দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইউজিসির তত্ত্বাবধানে উচ্চশিক্ষা ত্বরাণ্বিত ও রূপান্তর প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের মৃদু দক্ষতা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। তিনি প্রকল্পের অর্থের যথাযথ ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমির ডিন লায়লা নূর ইসলাম, ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের উপ-পরিচালক মিস মারিয়া রহমান এবং এডভান্স এইচই-এর প্রধান পরামর্শক বেন ব্রাবন।
প্রথম পর্যায়ে বিশ জন মূল প্রশিক্ষক তৈরির সফলতার ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত বিশ জন জাতীয় প্রশিক্ষক অংশগ্রহণ করছেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় আগামী তিন বছরে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পনেরো শত নবীন শিক্ষক এবং পঁয়ত্রিশ শত জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।


