কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। এটি এই মসজিদের ইতিহাসে এককালীন সর্বোচ্চ টাকা পাওয়ার নতুন রেকর্ড। এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। অতীতে ৪ মাস পরপর খোলা হলেও এবার ৬ মাস পর এগুলো খোলা হলো।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিবের উপস্থিতিতে টাকা খোলার কাজ শুরু হয়। দানবাক্সের টাকা প্রথমে বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নেওয়া হয়। পরে সেখানে ঢেলে শুরু হয় গণনা।
টাকা গণনায় অংশ নেন পাগলা মসজিদ-সংলগ্ন মাদ্রাসার ১১০ জন, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন শিক্ষার্থী, মসজিদের ৩৩ জন কর্মচারী, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, ‘এবার দানবাক্স খুলে ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। দিনভর গণনা শেষে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া যায়।’
তিনি জানান, পাগলা মসজিদের তহবিলে বর্তমানে মোট ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা রয়েছে। দেশ-বিদেশের দাতাদের জন্য মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনে ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে সহজে অনুদান পাঠানো যাচ্ছে। ওয়েবসাইটের বাংলা সংস্করণও চালু হয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা অনুদান এসেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজমুস সাকিব বলেন, ‘দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে টাকা গণনা ও ব্যাংকে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
দানবাক্স খোলার খবর ছড়িয়ে পড়লে মসজিদ প্রাঙ্গণে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মুসল্লিরা নগদ টাকা, সোনা-রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি হাঁস-মুরগি, গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন সামগ্রী মানত হিসেবে দান করেন।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মসজিদের টাকায় ২০০২ সালে পাশে একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ১৩০ জন এতিম শিশু পড়াশোনা করছে। তাদের যাবতীয় ভরণপোষণ ও জামাকাপড় এখান থেকে দেওয়া হয়। ওয়াকফ স্টেটের অডিটরের মধ্যমে প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে মসজিদের আয়-ব্যয়ের অডিট করা হয়।
পাগলা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্স পরিচালনার জন্য ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি রয়েছে। জেলা প্রশাসক এই কমিটির সভাপতি। স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি, আইনজীবী, সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই কমিটিতে আছেন।


