পদত্যাগের ভাষণে যা যা বললেন কিয়ার স্টারমার

পদত্যাগের ভাষণে যা যা বললেন কিয়ার স্টারমার
গত শুক্রবার লন্ডনে আবাসন প্রকল্প পরিদর্শনের সময় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ এবং লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্যার কিয়ার স্টারমার।

সোমবার এক বিশেষ বক্তব্যে তিনি এই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে জানান, দেশের স্বার্থকে সবার আগে রাখার চিন্তা থেকে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পদত্যাগের বক্তৃতায় স্টারমার জানান, দুই বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া ছিল তার জীবনের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত। দীর্ঘ ১৪ বছর পর তখন একটি নতুন লেবার সরকার গঠিত হয়েছিল। ৬ বছর আগে যখন তিনি লেবার পার্টির দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন দলটি রাজনৈতিক, আর্থিক ও নৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছিল এবং অনেকে মনে করতেন নির্বাচনে জয় বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু তারা দলকে বদলে ফেলে সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন।

তিনি তার সরকারের দুই বছরের সফলতার খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, দল থেকে ইহুদিবিদ্বেষের বিষ উপড়ে ফেলা হয়েছে এবং অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি শক্তিশালী এবং ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি মাসে মুদ্রাস্ফীতির চেয়েও দ্রুতগতিতে মানুষের আয় বেড়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের মধ্যে এনএইচএস বা স্বাস্থ্যসেবার অপেক্ষার তালিকার দ্রুত সমাধান করা হয়েছে এবং তার নেওয়া সিদ্ধান্তের ফলে ৫ লাখ শিশু দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে।

আরও পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি প্রসঙ্গে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে যুক্তরাজ্যের হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার হয়েছে। ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং বাণিজ্যিক চুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।

দুই বছরের মাথায় পদত্যাগের কারণ হিসেবে স্টারমার জানান, আগামী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি উপযুক্ত ব্যক্তি কি না, সেই প্রশ্নটি তাঁর দল করছিল। পার্লামেন্টারি পার্টি থেকে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পর তিনি বিনয়ের সঙ্গে তা মেনে নেন এবং সোমবার সকালে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে কথা বলে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান।

নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিকে (এনইসি) একটি সময়সূচি নির্ধারণ করতে বলা হবে, যেখানে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া ৯ জুলাই শুরু হয়ে গ্রীষ্মকালীন ছুটির আগেই শেষ হবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট চালু হওয়ার আগেই নতুন নেতা নির্বাচিত হবেন। এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন।

বক্তব্যের শেষে তিনি তার উত্তরসূরিকে পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং গত ৬ বছর পাশে থাকার জন্য বন্ধু ও সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। একই সাথে দায়িত্ব ছেড়ে এখন থেকে স্ত্রী ভিক ও সন্তানদের আরও বেশি সময় দেবেন বলে উল্লেখ করেন কিয়ার স্টারমার।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad