রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ার হাতে ১০ বিলিয়ন ডলার আসবে, যা সরাসরি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করা হবে।’
রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়তে থাকায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্র রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞায় এক মাসের ছাড় দিয়েছে। যদিও জেলেনস্কি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করেননি, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শুক্রবারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সমুদ্রে থাকা রুশ তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জেলেনস্কি জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে রুশ তেল বহনকারী ১১০টির বেশি ট্যাংকার সমুদ্রে অবস্থান করছে। এগুলোতে ১ কোটি ২০ লাখ টনের বেশি অপরিশোধিত তেল রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কারণে এই তেল এখন কোনো বাধা ছাড়াই বিক্রি করা সম্ভব হবে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। জেলেনস্কির মতে, ‘রুশ তেলের জন্য দেওয়া প্রতিটি ডলারই যুদ্ধের অর্থ।’
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে রাশিয়া তাদের শহরগুলোতে ২ হাজার ৩৬০টির বেশি ড্রোন, ১ হাজার ৩২০টির বেশি বিমান বোমা এবং প্রায় ৬০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। রোববারেও উত্তরাঞ্চলীয় শহর চেরনিহিভে হামলায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রুশ ট্যাংকারগুলোকে থামানো এবং হামলাকারী দেশের তেল রপ্তানি কমানো জরুরি।’ ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার এই পৈশাচিক হামলা বন্ধ করতে দীর্ঘমেয়াদি ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


