দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের পাঁচটি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। শুক্রবার পাউবো’র বুলেটিনে বলা হয়েছে, লালমনিরহাট, নীলফামারী, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে ডুবে যেতে পারে।
এতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ–নদীর পানি সমতল বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিস্তাসহ কয়েকটি নদীর পানি আগামী তিন দিনে সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট ও নীলফামারী এবং ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে বুলেটিনে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ ভারতের উড়িষ্যা ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করে বর্তমানে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।
এর প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে ভারি বৃষ্টি হয়েছে। তবে উজানে ভারতে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়নি। আগামী তিন দিনে দেশের রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে এবং সংলগ্ন ভারতীয় প্রদেশগুলোতে বিচ্ছিন্নভাবে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বুলেটিনে আরও জানানো হয়, রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানি সমতল ইতিমধ্যে বেড়েছে। ধরলা নদীর পানি কিছুটা কমলেও দুধকুমার স্থিতিশীল আছে। এসব নদীর পানি আগামী তিন দিনে বাড়তে পারে। একইভাবে সোমেশ্বরী ও ভুগাই নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
এদিকে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের করতোয়া, যমুনেশ্বরী, পুনর্ভবা ও টাঙ্গন নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আত্রাই, মহানন্দা ও ঘাঘট নদীর পানি কিছুটা কমলেও আবার দ্রুত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় নদীগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ার দেখা দিয়েছে। এ অবস্থা আরও এক দিন স্থায়ী হতে পারে।


