ভারতের দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করল ভারত সরকার। তাদের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয় বরং ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা’।
বিবিসির খবরে বলা হয়, বুধবার রাতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দেশ এক জঘন্য সন্ত্রাসী ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। দেশবিরোধী শক্তি এ হামলা চালিয়েছে।’
ন্যাক্কারজনক এ হামলায় জড়িতদের খুঁজে বের করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিতে সর্বোচ্চ তৎপরতা ও পেশাদারত্ব মেনে চলার নির্দেশ দেয় মোদী সরকার।
বিবৃতিতে নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানির ঘটনাকে ‘বর্বর ও কাপুরুষোচিত’ উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানায় মন্ত্রিপরিষদ। সেইসঙ্গে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘ জিরো টলারেন্স’ নীতিতে ভারত অবিচল থাকবে বলেও হুঁশিয়ার করা হয়।
গত সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে রাজধানী দিল্লির লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি হুন্দাই আই-টোয়েন্টি মডেলের গাড়ি ট্রাফিক সিগন্যালে থামার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।
এতে অন্তত নয়জন নিহত ও ২০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ওই গাড়িতে থাকা তিন ব্যক্তিও রয়েছেন বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তাদের ধারণা, আতঙ্ক ছড়াতেই গাড়িতে বিস্ফোরক রেখে ‘আত্মঘাতী’ হামলা চালায় সন্দেহভাজনরা।

দিল্লি পুলিশ কমিশনার সতীশ গোলচা বলেন, ‘দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত এলাকায় যে সময়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, তখন বেশিরভাগ দিল্লিবাসী কাজ শেষে ঘরে ফিরছিলেন। আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তদন্ত চলছে, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
এদিকে গত মঙ্গলবার হামলায় জড়িত অন্যতম সন্দেহভাজন চিকিৎসক উমর মোহাম্মদের ছবি প্রকাশ করে তদন্ত কর্মকর্তারা। পুলিশের তথ্যমতে, তিনি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা।
এই বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ‘হোয়াইট কলার’ বা নিজস্ব পেশার আড়ালে পরিচালিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালায় জম্মু ও কাশ্মীর এবং হরিয়ানা পুলিশ। ওই অভিযানে ডা. উমরের ঘনিষ্ঠ দুই সহযোগী ডা. আদিল আহমদ রাঠার এবং ডা. মুজাম্মিল শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সন্দেহভাজন হামলাকারী উমর তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে ফরিদাবাদ থেকে পালিয়ে দিল্লিতে অবস্থান নেন। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনি আতঙ্কিত হয়ে ওই বিস্ফোরণ ঘটান।
বিস্ফোরণের পর দিল্লিসহ উত্তরপ্রদেশ, কলকাতা, চেন্নাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতেও উচ্চ সতর্কতা জারি করে নিরাপত্তা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সন্ত্রাসীদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছি। কোনও কিছু বাদ যাবে না। তদন্তের অগ্রগতি দ্রুত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হতাহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও এ হামলাকে ‘অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন।


