কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে এক সময় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন মহাসড়ক অচল করে দিয়েছিলেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের জন্য স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ হওয়ার পর আবারও রাজপথ বন্ধ করে আন্দোলন শুরু হয়েছে। তবে এবার আন্দোলনের পক্ষে-বিপক্ষে মোট চারটি পক্ষ।
এদের মধ্যে তিন পক্ষ চায় কলেজের স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি। এই পক্ষে আছেন সাত কলেজের শিক্ষক, উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ইডেন মহিলা কলেজের একদল শিক্ষার্থী। এরই মধ্যে বুধবার তারা ইডেন কলেজের সামনের রাস্তা অবরোধ করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ খসড়া অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এই অধ্যাদেশের খসড়ার ওপর মতামত নিচ্ছে। পরে এই অধ্যাদেশ জারি করবে সরকার।
কলেজের স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে কলেজগুলোর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, অধ্যাদেশ অনুসারে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কলেজগুলো হবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস।
আন্দোলনকারী শিক্ষকদের দাবি, অধ্যাদেশ অনুসারে ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুলিং ও হাইব্রিড মডেলটি যথাযথ নয়। তাই কলেজগুলোকে এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করে শিক্ষার মান ঠিক রাখতে হবে।
আন্দোলনকারী উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় হলে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় বন্ধ হয়ে যাবে। এতে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবেন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী।
ইডেন মহিলা কলেজের কিছু শিক্ষার্থীর দাবি, তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে নারীদের জন্য। বিশ্ববিদ্যালয় হলে এটি ছেলেদের সঙ্গে সহশিক্ষার প্রতিষ্ঠান হবে। কিন্তু তারা সহশিক্ষা চান না। তাই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ চান।
এই তিন পক্ষের বিপরীতে নেমেছেন সাত কলেজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, কলেজগুলো বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে গেলে শিক্ষকরা সেখানে শিক্ষকতার সুযোগ পাবেন না। তাদেরকে রাজধানীর বাইরের সরকারি কলেজে চলে যেতে হবে। রাজধানীর বাইরে যেতে না চাওয়ার জন্যই শিক্ষকেরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
এই শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষকেরা নিজেদের স্বার্থে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদেরকে ভুল বোঝাচ্ছেন।
স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে বুধবার ঢাকা কলেজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসেন। এতে পুরো নিউ মার্কেট এলাকাজুড়ে যানবাহন চলাচলের বিশৃঙ্খলায় জনভোগান্তি দেখা দেয়।
এই শিক্ষার্থীরা শনিবারের মধ্যে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভিার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ জারি না হলে রোববার থেকে শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।


