জ্বালানিতে প্রতিদিন শতকোটি টাকার ভর্তুকি, মিতব্যয়ী হোন: প্রধানমন্ত্রী

জ্বালানিতে প্রতিদিন শতকোটি টাকার ভর্তুকি, মিতব্যয়ী হোন: প্রধানমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। ছবি : বাসস
Advertisement
Advertisement

জ্বালানি তেলে প্রতিদিন সরকার শতকোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংকট মোকাবিলায় সবক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, ‘বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা সব কিছু স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি। বিশ্বের সব দেশে তেল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও আমরা দাম বাড়াইনি। এই খাতে প্রতিদিন শতকোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে । জনগণের সুবিধা নিশ্চিত রাখতে সরকার সম্ভাব্য সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কারণ বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার।’

তিনি বলেন, ‘আমি আশ্বস্ত করতে চাই, জনগণের বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। তবে রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাহুল্যের বর্জন, এমনকি পারিবারিক পর্যায়েও অমিতব্যয়িতা পরিহার করার জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানাই।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে এবং জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ (মরণোত্তর) ১৫ জন এবং পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সন্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

‘প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা নয়’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছিলাম। সেই বাংলাদেশটি এখন ৫৫ বছর পার করে ফেলেছে। এতো বছরে আমাদের যেমন অনেক প্রাপ্তি রয়েছে, অপ্রাপ্তিও কম নয়। সুতরাং আমাদের প্রত্যাশিত স্বনির্ভর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা কিংবা আর অযথা বিতর্ক নয়।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলতেন, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। সেই কথা স্মরণ রেখেই বলতে চাই, আমাদের মত ও পথ ভিন্ন হতে পারে, আমাদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক বিরোধ থাকতে পারে, তবে আমাদের মধ্যকার বিতর্ক বিরোধ যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, দেশের স্বার্থে সেই ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী চক্র কিন্তু এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।’

আরও পড়ুন

‘সরকারের অগ্রাধিকার’

তারেক রহমান বলেন, ‘দুর্নীতি দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।’

তিনি বলেন, ‘দেশের বর্তমানে এক বিশাল সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে। কর্মক্ষম এই জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করাই এই মুহূর্তের বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু অর্থনীতিই নয়, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও বিপর্যয় নেমে এসেছিল। ইন্টেরিম সরকারের সময়েও শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরেনি দুঃখজনকভাবে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দেশে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং কর্মমুখী করতেই হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার কাজটিও আমরা ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছি। দেশে অর্ধেকের বেশি নারী। নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে না পারলে আমাদের কোনো উদ্যোগই সহজে সফল হবে না। এভাবে প্রতি সেক্টরকে চিহ্নিত করে সরকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।’

‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবই’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের রায়ে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার আগেই আমরা বিস্তারিতভাবে দেশের জনগণের সামনে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেছিলাম। রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার নিয়ে আমরা প্রকাশ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য স্বাক্ষর করেছিলাম। জনগণ আমাদের প্রতিটি অঙ্গীকারের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। এবার আমাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পালা। আমরা ইতোমধ্যেই জনগণের সামনে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি । আমরা দলীয় ইশতেহার এবং স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফার প্রতি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ।’

‘জাতীয় নেতাদের স্মরণে কার্পণ্য নয়’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবময় পুরস্কার ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবজনক রাষ্ট্রীয় সম্মান। স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা দেশ এবং জনগণের জন্য স্মরণীয় অবদান রেখেছেন কিংবা রাখবেন তাদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রবর্তন করেছিলেন।

তিনি বলেন. ‘এই অনুষ্ঠানে আমি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সব জাতীয় নেতার ভূমিকা এবং অবদানকে শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসায় স্মরণ করছি। আমরা যদি হীন দলীয় স্বার্থে আমাদের ইতিহাসের জাতীয় নেতাদের ভূমিকাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে কার্পণ্য করি, তাহলে ভবিষ্যতের ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। আমি বিশ্বাস করি, ঐতিহাসিক সত্য মেনে নিতে দ্বিধাচিত্ত থাকা হীনমন্যতার পরিচায়ক।’

এবারের স্বাধীনতা পুরস্কারের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বছর স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক এবং পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেছে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে অসামান্য অবদানের জন্য আমার মরহুমা মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এ বছর মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন। স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সব গুণীজন এবং প্রতিষ্ঠানকে আমি আমার নিজের এবং দেশ ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’

তিনি বলেন, ‘যারা স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হলেন আপনারা জাতির গৌরব। আপনাদের মতো সফল মানুষরা আগামী প্রজন্মের সামনে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠুন। যারা মরণোত্তর পুরস্কার পেয়েছেন আল্লাহর দরবারে তাদের মাগফিরাত কামনা করছি।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্যরা, বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত জোবেরা রহমান, অধ্যাপক ‍সুকোমল বড়ুয়া ও পল্লৗ কর্মসংস্থাক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর