চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দলীয় প্রভাবের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ।
বুধবার দুপুর আড়াইটায় নগরের কোর্ট হিল এলাকায় আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আইনজীবী কবির হোসাইন বলেন, নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। বরং তারা একটি নির্দিষ্ট পক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। এ অবস্থায় এই কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। অবিলম্বে নির্বাচন বাতিল করে দুই মাসের মধ্যে নতুন তফসিল ঘোষণা করে পুনরায় নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তিনি।
ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের অভিযোগ, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া, প্রার্থীদের নাজেহাল করা এবং প্রশাসনিক হয়রানির আশঙ্কা দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।
সংগঠনটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুল আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনাররা সরকার-সমর্থিত প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী করার জন্য হস্তক্ষেপ করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি এবং ভোটার তালিকাও সরবরাহ করা হয়নি। এ কারণে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সন্তোষজনক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, নির্বাচন না করে আপসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এতে রাজি না হওয়ায় একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকার-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে অবৈধ কার্যক্রমকে বৈধতা দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, এসব কারণে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে এবং আইনজীবী সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের নেতারা বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নতুন করে নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের দাবি জানান।
এ বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট রৌশন আরা বেগম বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলে কি হবে, তাদের আটজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে গেছে। তারা ফরম জমা দিলেও তার বিপরীতে কোনো টাকা জমা দেয়নি। একটি চেক জমা দিয়ে বলেছিল যে, ৫টার মধ্যে টাকা দিয়ে দেবে, কিন্তু আমরা ৬টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো টাকা পাইনি; এমনকি তারা আংশিক টাকাও দেয়নি। টাকা জমা না দেওয়ার কারণেই কমিশন তাদের প্রার্থিতা বাতিল করেছে।’


