বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব দাবিদারের প্রতিযোগিতা চলছে। তবে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান কখনোই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব দাবি করেননি।
বুধবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বিএনপির সাত শতাধিক সদস্য গুম হয়েছেন ও পাঁচ হাজারের বেশি নেতাকর্মী বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। প্রায় পঞ্চাশ লাখ নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। সিংহভাগ সময় তাদের কাটাতে হয়েছে আদালতের বারান্দায়। তবুও তারেক রহমান গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব সমগ্র দেশবাসীকে দিয়েছেন।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কৃতিত্বের প্রতিযোগিতা নয়, রাজনীতিতে সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের শরীরী ভাষায় অতিরিক্ত উত্তেজনা মাঝে মাঝে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সামান্য কিছু শব্দ বা বাক্য নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
গৃহস্থালি পর্যায়ে জ্বালানি ব্যবহারে স্বস্তি আনতে সরকার নারীদের জন্য এলপিজি কার্ড চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করে সাধারণ পরিবারের জীবনযাত্রা সহজ করা হবে।
যশোর-৩ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত প্রতিমন্ত্রী অমিত যশোর অঞ্চলে চিকিৎসা অবকাঠামোর ঘাটতি ও তা দূরীকরণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘উন্নত চিকিৎসার অভাবে যশোরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে ঢাকাসহ বড় শহরে যাওয়ার পথে প্রাণ হারাতে হচ্ছে। যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন ইরানের মৃত্যুর উদাহরণ তুলে ধরে তিনি দীর্ঘদিন অচল থাকা করোনারি কেয়ার ইউনিট দ্রুত চালুর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘যশোরে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট একটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত হবে এবং রোগীদের দূরপাল্লার যাত্রার প্রয়োজন কমে আসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।’
অমিত আশা প্রকাশ করেন, ‘চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি কমবে।’


