বান্দরবানের লামা উপজেলায় খাদ্য সংকটে বন্যহাতির পাল ঘনঘন লোকালয়ে নেমে এসে কৃষকদের রোপিত ফসল, কলাবাগান ও সবজি ক্ষেত ব্যাপকভাবে নষ্ট করে ফেলছে। স্থানীয়দের দাবি, এতে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খেদারবান এলাকায় বন থেকে নেমে আসে বন্যহাতির একটি পাল। এ সময় হাতির দলটি কৃষক আনোয়ার হোসেনের বাগানে হামলা চালিয়ে প্রায় ২০০টি কলাগাছ খেয়ে ফেলে এবং রোপিত সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দেয়।
একই রাতে খেদারবান ছাড়াও ফাইতং ইউনিয়নের সুতাবাদী, নয়াপাড়া ও আশপাশের আরও তিনটি এলাকায় বন্যহাতির পাল তাণ্ডব চালায়। এতে কয়েকজন কৃষকের প্রায় অর্ধসহস্রাধিক কলাগাছ ও বিভিন্ন ধরনের ফসল নষ্ট হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, প্রতিদিন রাত হলেই বন্যহাতির দল বাগান ও সবজি ক্ষেতে ঢুকে পড়ে। হাতিগুলো যেদিক দিয়ে যায়, তাদের পায়ের চাপে সবকিছু চূর্ণ হয়ে যায়।
‘হাতির ভয়ে আমরা রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না। শনিবার সকালে বাগানে গিয়ে দেখি হাতিগুলো তখনও সেখানে অবস্থান করছিল। পরে তাড়ানোর পর দেখি ২০০টিরও বেশি কলাগাছ খেয়ে ফেলেছে। এতে আমার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে’ বলেন তিনি।
এ সময় হাতির তাণ্ডবের বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে জানান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা পাওয়ার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও লামা বনবিভাগের প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।
একই এলাকার কৃষক জসিম, ইকবাল, মুবিন, রাকিব, আব্দুর রাজ্জাক, হেলাল উদ্দিন ও শাহাজাহান জানান, একই রাতে বন্যহাতির পাল তাদের বাড়িঘর ও কৃষিজমিতে হামলা চালায়। এতে কলাবাগান ও সবজি ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক রাতেই ৫০০টির বেশি কলাগাছ নষ্ট হয়েছে দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে লামা বন বিভাগের আওতাধীন ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. হাবিব জানান, শনিবার রাতে ফাইতং ইউনিয়নের চারটি এলাকায় বন্যহাতির পাল হামলা চালিয়েছে। এতে কৃষকদের ফসল ও কলাবাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
লামার একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতা এম. রুহুল আমিন জানান, পাহাড়ে পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাব তৈরি হওয়ায় বন্যহাতিরা পাহাড় ছেড়ে লোকালয়ে নেমে আসছে। মানুষের বসতি ও চলাচল বেড়ে যাওয়ায় হাতির আবাসস্থল ও খাদ্যের জায়গা নষ্ট হয়েছে।
এ ছাড়া শীত মৌসুমে ধান ও অন্যান্য ফসলের সন্ধানে হাতিরা গ্রামে আসে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফাইতং এলাকায় আসা হাতির পালকে পাহাড়ের ভেতরে ফেরত পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্তদের নিকটস্থ বনবিভাগের আওতাধীন ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে আবেদন করতে বলা হয়েছে। আবেদন নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বন্যহাতির আবাসস্থলে মানুষ বসতি গড়ে তোলায় তাদের খাদ্য ও চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, খাদ্য সংকটে হাতিরা লোকালয়ে চলে আসছে। এ বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।


