ক্রাউড ফান্ডিং: ‘জনগণের টাকা’য় এনসিপি নেতাদের নির্বাচন

ক্রাউড ফান্ডিং: ‘জনগণের টাকা’য় এনসিপি নেতাদের নির্বাচন
Advertisement
Advertisement

‘জনগণের টাকা’য় নির্বাচন করবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তিনজন ‘তারকা’ প্রার্থী। তাদের মধ্যে দুজনেরই প্রায় পুরো নির্বাচনী ব্যয় দেবে ‘জনগণ’। নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’-এর মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে তারা টাকা তুলবেন।

এছাড়া আরও দুই ‘তারকা’ প্রার্থীর একজন নিজের টাকার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষী দের টাকায় নির্বাচন করবেন। অন্যজন শুধু নিজের টাকায় নির্বাচন করবেন, তাও আবার তার সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় সবচেয়ে কম।

এনসিপির এই পাঁচজন ‘তারকা’ প্রার্থী হচ্ছেন নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও হান্নান মাসউদ।

নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া নির্বাচনের সম্ভাব্য ব্যয়ের হলফনামা থেকে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

প্রসঙ্গত, ঢাকা-৯ আসনে এনসিপির মনোনয়ন পেয়ে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’-এ অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছিলেন ডা. তাসনিম জারা। পরে তিনি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে মনোনয়নপত্র জমাদানের সময়ই তিনি ‘ক্রাউড ফান্ডিং’-এ ৪৭ লাখ টাকা সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

নির্বাচনী আইন অনুসারে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কোনো ঋণ, উপহার বা দান হিসাবে পাওয়া অর্থের সুনির্দিষ্ট তথ্য জানানোর বাধ্যবাধকতা নেই। তবে ঋণ, উপহার বা দানের অর্থ পাঁচ হাজার টাকার বেশি হলে দাতার নাম হলফনামায় উল্লেখ করতে হয়।

আরও পড়ুন

রাজধানীর ঢাকা-১১(ভাটারা-বাড্ডা-রামপুরা-বনশ্রী) আসনে নির্বাচন করবেন এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম। এই আসনের ভোটার প্রায় সাড়ে চার লাখ। নির্বাচনী আইন অনুসারে তিনি প্রতি ভোটার পিছু সর্বোচ্চ ১০ টাকা হারে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা খরচ করতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুসারে এই নির্বাচনী ব্যয়ের মাত্র এক লাখ টাকা নিজের পকেট থেকে দেবেন নাহিদ। বাকী ৪৪ লাখ টাকা সংগ্রহ করবেন ‘ক্রাউড ফান্ডিং’-এ।

তবে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’-এ সর্বোচ্চ টাকা তুলবেন এনসিপির সদস্য সচিব ও পেশায় আইনজীবী আখতার হোসেন। রংপুর-৪ (পীরগাছা, কাউনিয়া) আসনে নির্বাচনের জন্য তিনি ব্যয় করতে পারবেন প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এরমধ্যে তিনি নিজের অর্থ ব্যয় করবেন এক লাখ টাকা। বাকী ৪৯ লাখ টাকা আসবে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’-এ।

এনসিপির আরেক আলোচিত নেতা দলের দক্ষিনাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ (মনোনয়নপত্রে শুধু আবুল হাসনাত)। পেশায় নিজেকে বলেছেন ব্যবসায়ী। তিনি সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা নিজের পকেট থেকে খরচ করবেন। বাকী ৩০ লাখ টাকা তুলবেন ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ থেকে।

তবে এই তিন প্রার্থী থেকে আলাদা এনসিপি’র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। পঞ্চগড়-১ (সদর, তেঁতুলিয়া, আটোয়ারী) আসনে নির্বাচন করতে গিয়ে তিনি খরচ করতে পারবেন প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। পেশায় তিনিও ব্যবসায়ী, বাৎসরিক নয় লাখ টাকা আয়ের বিপরীতে তার ব্যয় সাত লাখ ২৭ হাজার টাকা। পাঁচ লাখ টাকা তিনি নিজের পকেট থেকে দেবেন, বাকী টাকা দেবে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। হলফনামায় তিনি এই আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নামও দিয়েছেন, যাদের মধ্যে আছেন চাচা, মামা, শ্বশুর ও শাশুড়ি। শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে দেবেন ১৩ লাখ টাকা।

তবে নির্বাচনী ব্যয়ে পুরোদস্তুর নিজের ওপর নির্ভরশীল এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ। নোয়াখালী-৬(হাতিয়া) থেকে নির্বাচন করছেন তিনি। প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভোটারের এই আসনে হান্নান মাসউদ খরচ করতে পারবেন প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে ১২ লাখ টাকা তিনি নিজ তহবিল থেকে খরচ করবেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তার সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয়ের আর কোনো উৎস দেখানো হয়নি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad