কক্সবাজারে প্রায় ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে পেকুয়া, টেকনাফ ও উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির থেকে দুই রোহিঙ্গাসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায় এক পথচারী, পথের বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলায় আহত এক কলেজ শিক্ষার্থী, অপহরণের পর হত্যার শিকার এক রোহিঙ্গা যুবক এবং বৃষ্টির পানিতে ভেসে যাওয়া এক রোহিঙ্গা শিশু।
শনিবার রাত ১০টা থেকে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, পেকুয়ায় শনিবার রাত ১০টার দিকে নবগঠিত পৌরসভার ভোলাইয়্যাঘোনা এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি অটোরিকশার ধাক্কায় মোহাম্মদ হোসেন (৫৩) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের পুরাতন পাড়া এলাকায় চলাচলের পথ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত কলেজ শিক্ষার্থী শফি উল্লাহ (২২) নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।
টেকনাফ থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, যাতায়াতের পথ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরেই ঘটনাটি ঘটেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
অন্যদিকে, উখিয়ার থাইংখালী জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে অপহরণের ১২ দিন পর আব্দুল হাফেজ (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবকের মস্তকবিহীন অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। রোববার সকালেএকটি সেফটিক ট্যাংক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উখিয়ার ৪ নম্বর এক্সটেনশন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে বৃষ্টির পানিতে ভেসে গিয়ে মোহাম্মদ শফিক (৬) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। ক্যাম্পের জলধারে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলার সময় সে পানির স্রোতে ভেসে যায়।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নিখোঁজ রোহিঙ্গা যুবকের মস্তকবিহীন অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল জানান, পানিতে ভেসে যাওয়া শিশু মোহাম্মদ শফিকের মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


