ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম কমাতে আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট কমিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এলপিজি আমদানির ওপর বিদ্যমান ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন পর্যায়ে এই ভ্যাট কমিয়ে ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ক্রমবর্ধমান গ্যাস সংকট ও বাজারে মূল্যের অস্থিরতা রোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
এছাড়া এলপিজি আমদানির পথ সহজ করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এলসি (ঋণপত্র) খোলা এবং ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এছাড়া বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পাঁচটি কোম্পানিকে বাড়তি আমদানির অনুমতি দিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) আজ চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এলপিজিকে ‘গ্রিনফুয়েল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই প্রেক্ষাপটে সামগ্রিক কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে ব্যবহৃত মোট এলপিজির প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে আমদানি করা হয়। শীত মৌসুমে পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় এলপিজির চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়, যার ফলে বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। সাধারণ ভোক্তার ওপর এই চাপের প্রভাব কমাতেই ভ্যাট ও ট্যাক্স কমানোর এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত।
এদিকে, এলপিজির মূল্য অস্থিরতা ও বিভিন্ন দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় ‘এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড’। এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার বাজার স্থিতিশীল রাখতে এসব পদক্ষেপ নেয়।


