আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির ‘শাপলা’ দাবির মধ্যেই দলীয় প্রতীক হিসেবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে একই প্রতীক বরাদ্দ চেয়েছে বাংলাদেশ কংগ্রেস নামের একটি দল।
সোমবার নির্বাচন কমিশনে ডাবের বদলে শাপলা প্রতীক চেয়ে আবেদন করেন দলটির মহাসচিব মোহাম্মদ ইয়ারুল ইসলাম। পরে দলটির দপ্তর সম্পাদক তুষার রহমান ইসির ডেসপ্যাচ বিভাগে আবেদনপত্রটি জমা দেন।
আবেদনে বলঅ হয়, ‘২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশ কংগ্রেস তার রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে “শাপলা” ব্যবহার করে আসছে। দলের প্রথম প্রচারপত্র থেকে শুরু করে ব্যানার, পোস্টার, দলীয় লোগো সর্বত্রই শাপলার উপস্থিতি রয়েছে। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে নিবন্ধনের সময় নির্বাচন কমিশন জানায়, শাপলা যেহেতু জাতীয় প্রতীক, তাই এটি দলীয় প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। কমিশনের সেই নির্দেশনা মেনে কংগ্রেস “বই” প্রতীক প্রস্তাব করে আবেদন জমা দেয়।’
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর দলটির নিবন্ধন দেওয়া হলেও বই প্রতীকটি গেজেটভুক্ত না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই প্রতীক হিসেবে ‘ডাব’ নিতে হয় বাংলাদেশ কংগ্রেসকে।
বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব বলেন, ‘আমরাই শাপলা প্রতীকের প্রথম দাবিদার। এখন নির্বাচন কমিশন কাউকে এ প্রতীক বরাদ্দ দিলে প্রথমেই বাংলাদেশ কংগ্রেসকে দিতে হবে। এজন্যই আমরা আবেদন করেছি।’
প্রতীক হিসেবে শাপলা নিয়ে ‘হইচই’ শুরু হয় যখন এনসিপিকে এই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানায় ইসি। বিভিন্ন সময় দলটির নেতারা তাদের বক্তব্যে শাপলা প্রতীকের জোর দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনও অনড়, জাতীয় প্রতীকে থাকা শাপলা কোনো দলকেই বরাদ্দ না দেওয়ার বিষয়ে। তারপরেও বারবারই ‘শাপলা’ চেয়ে আবেদন করেছে এনসিপি।
অবশ্য রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন প্রতীক তালিকার গেজেটেও শাপলা নেই। ফলে কংগ্রেস বা এনসিপি কাউকেই এই প্রতীকটি দিতে পারবে না কমিশন।
তবে এনসিপিকে শাপলা প্রতীক না দেওয়া হলে কীভাবে নির্বাচন হয় তা দেখে নেওয়াও হুমকি দিয়েছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বিভিন্ন বক্তব্যে অভিযোগ করেছেন যে, অন্য কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এনসিপিকে দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলা দিচ্ছে না ইসি।
শাপলা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছিলেন, ‘নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নাগরিক ঐক্য প্রথমে শাপলা প্রতীক চেয়েছিল। দলটি এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এটা দেওয়া যাবে না।’


