আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। দলটির দাবি, ইসির মাঠ পর্যায়ের এবং সদর দপ্তরের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছেন।
রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই অভিযোগ জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মনোনয়নপত্র নিয়ে আপিল নিষ্পত্তির শেষ দিনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানসহ একটি প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাখানেক বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে বেরিয়ে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের জানান, ইসি অনেক ক্ষেত্রেই পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে তারা মনে করছেন। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা একটি দলের পক্ষে কাজ করছেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নির্দিষ্ট দলের হয়ে কাজ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সিইসিকে জানানো হয়েছে। তবে এই কর্মকর্তারা কোন দলের পক্ষে কাজ করছেন, সে বিষয়ে মির্জা ফখরুল সরাসরি কোনো নাম উল্লেখ করেননি।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ এনে মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াতের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের এনআইডি কপি, বিকাশ ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছে। এটিকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’ হিসেবে অভিহিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন আসনে বহিরাগত ভোটারদের ব্যাপক হারে এলাকা পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি দল অনৈতিক কূটকৌশল অবলম্বন করছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, কত সংখ্যক ভোটার কোন এলাকা থেকে কেন স্থানান্তর করা হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ জরুরি ভিত্তিতে ইসির কাছে দাবি করেছে বিএনপি।
সিইসির কাছে পোস্টাল ব্যালট এবং নির্বাচনি আচরণবিধি নিয়েও নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় একটি দলকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিএনপি তাই প্রতীক বরাদ্দের পর পোস্টাল ব্যালট সরবরাহের পরামর্শ দিয়েছে।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি এটি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে দলের চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সফর বাতিল করেছে। কিন্তু অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতারা প্রতিনিয়ত আচরণবিধি ভঙ্গ করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে ইসি ছোটখাটো ত্রুটিগুলো সংশোধন করে একটি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে পারবে বলে মির্জা ফখরুল আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে, সকাল থেকেই ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দাবিতে নির্বাচন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে ইসির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সিদ্ধান্ত আরও সমস্যা তৈরি করবে। ইসির এটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
বৈঠকে বিএনপি প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ইসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়া এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল।


