যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ‘ধীরেসুস্থে’ উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হবে। এ কাজে ইরান তাদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে এ ধরনের কোনো সমঝোতার কথা অস্বীকার করেছে ইরানের কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথাও স্থানান্তর করা হবে না।
শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা এটি (ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া) একসঙ্গে করব। আমরা ইরানের সঙ্গে ধীরেসুস্থে এগোব এবং বড় বড় যন্ত্রপাতি দিয়ে খনন শুরু করব। এরপর আমরা তা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসব।’
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে ‘নিউক্লিয়ার ধুলা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই এটি উদ্ধার করা হবে।’ মূলত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ট্রাম্প তাকে ‘নিউক্লিয়ার ধুলা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
তবে ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ ধরনের কোনো সমঝোতা হয়নি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথাও স্থানান্তর করা হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে ইউরেনিয়াম পাঠানো আমাদের জন্য অবশ্যই কোনো বিকল্প নয়।’
ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ ৯০০ পাউন্ডের বেশি ইউরেনিয়াম রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই যুদ্ধের প্রধান কারণ ছিল।’ অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি শুধুমাত্র বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসানে আশাবাদী হলেও ট্রাম্প বলেন, চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বহাল থাকবে।
‘আমি মনে করি চুক্তিটি খুব দ্রুত হবে। ইরানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এখন ভালো’, যোগ করেন তিনি। ট্রাম্প আরও জানান, হরমুজ প্রণালি থেকে ইরানের পুঁতে রাখা মাইন অপসারণেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরান কাজ করছে।


