প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের সম্ভাব্য ‘পদত্যাগের’ গুঞ্জনে জুলাই অভ্যুত্থানের পর আত্মগোপনে থাকা হাজারো আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে বলে জানা গেছে।
‘ইউনুস পদত্যাগ বিবেচনা করছেন’, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের এমন মন্তব্যের পরপরই টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের বহু গ্রুপে পলাতক আওয়ামী লীগ কর্মীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন, রাতভর নতুন জল্পনা-কল্পনায় তাদের তৎপরতা বাড়ে।
একাধিক আওয়ামী জনের মন্তব্য, ‘ওনার (ইউনুস) হতাশাই আমাদের সুযোগ হতে পারে!’
গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে দৃশ্যত প্রাচীন দল আওয়ামী লীগকে এক রকম ধ্বংসই করে গেছেন। শীর্ষ নেতারাও দেশ ছেড়ে পলাতক। জুলাই হত্যাকাণ্ডের অসংখ্য মামলায় গ্রেপ্তার ও জনরোষ এড়াতে দিশেহারা দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মী গা ঢাকা দেন।
তাদের ধারণা, জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের নেতাকর্মী, নাগরিক সমাজ, এমনকি সরকারও রয়েছে চরম আওয়ামী বিরোধী অবস্থানে। উপরন্তু গত ১০ মে আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় দলের ভেতরে হতাশা আরও বেড়েছে।
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, ‘লীগের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের বিশ্বাস, যদি ইউনুসের মতো বিশাল “আইকন” দৃশ্যপট থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে সরকারের ভিঁত নড়ে যাবে, আর এটিই হতে পারে তাদের প্রকাশ্য রাজনীতির মোক্ষম সময়!’
এমনও খবর ছড়িয়েছে, বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকের পর মুহাম্মদ ইউনূস নাকি অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রশ্ন তুলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার পদে থাকা উচিত কি না। রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা না পাওয়া, ঢাকায় প্রতিদিনের বিশৃঙ্খলা ও সংস্কার কার্যক্রমে অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। সূত্র জানায়, এ সময় তিনি নতুন একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাবও দেন এবং একটি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের খসড়া তৈরি করা হয়।
পরে সন্ধ্যায়, সাবেক উপদেষ্টা, এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা যমুনায় ইউনুসের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বিবিসি বাংলাকে জানান, ‘তিনি নিজেকে জিম্মি মনে করছেন’ এবং বলেছেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো যদি একমত না হয়, তাহলে তিনি কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না।’
ইউনুসকে পদত্যাগ না করতে অনুরোধ করেন নাহিদ, কারণ তাতে অস্থিরতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণ বলছে, তবে সরকার প্রধান হিসেবে ইউনূসের ওই অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলে ব্যাপক আলোড়ন। আর আওয়ামী মহলে এটি ‘আত্মপ্রকাশের সুযোগ’ হয়ে দেখা দেয়।
এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ অভিযোগে উপদেষ্টাদের ঘিরে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ছে।
পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে মাহফুজ আলম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও খলিলুর রহমান—এই তিন উপদেষ্টার অপসারণের দাবি তুলেছে বিএনপি। বিপরীতে এনসিপি আবার ‘বিএনপি-ঘনিষ্ঠ’ অভিযোগে আসিফ নজরুল, ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ ও সালেহউদ্দিন আহমেদ—এই তিন উপদেষ্টাকে সরানোর দাবি জানিয়েছে।
এসব চাপ ইউনূস সরকারের সহযোগী সংস্কারপন্থীদের জন্য অস্বস্তির কারণ হলেও ক্ষমতাচ্যুত দলটির জন্য তা ‘সুখবর’ হিসেবে মনোবল বাড়িয়েছে।


