নাটকীয়ভাবে মাত্র চারদিন আগে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন সেবাস্তিয়ান ল্যুকর্নু। তাকেই আবার সে পদে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
শুক্রবার রাতে দেশটির প্রেসিডেন্টের বাসভবন এলিসি প্রাসাদে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর এমন সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে ওই আলোচনায় কট্টর ডান ও বামপন্থী দলের নেতাদের ডাকা হয়নি।
ক্ষমতা গ্রহণের ২৬ দিনের মাথায় গত সোমবার সকালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন ল্যুকর্নু। তারপরই তার পদত্যাগের ঘোষণা জানায় এলিসি প্যালেস কর্তৃপক্ষ।
বিবিসির খবরে বলা হয়, ৩৯ বছর বয়সী ল্যুকর্নুর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রত্যাবর্তন হতবাক করেছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বোদ্ধাদের। দুদিন আগেই ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী পদে ফেরার জন্য তিনি আর লড়াই করছেন না, পদত্যাগ জমা দিয়েই তার দায়িত্ব শেষ।
তবে শুক্রবার রাতে ফের ফান্সের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার নাম ঘোষণার পর এক্স পোস্টে ল্যুকর্নু বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের অনুরোধে আবারও দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছি। বছর শেষ হওয়ার আগেই ফ্রান্সের অর্থনৈতিক দূরাবস্থা কাটাতে বাজেট প্রস্তুতসহ দেশের মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে আমার সরকার কাজ করবে।’
ফ্রান্সের অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে সংকটাপন্ন। চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশটির সরকারি ঋণ ছিল জিডিপির (মোট জাতীয় উৎপাদন) ১১৪ শতাংশ, যা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। বাজেটেও ঘাটতি থাকায় এই ঋণ বছর শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দাঁড়াতে পারে বলে শঙ্কা জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
ল্যুকর্নু বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে সুস্থ করার কাজ থেকে কেউ মুখ ফিরিয়ে নিলে কিংবা বাধা দিলে, তার আর কিছুই করার থাকবে না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।
ল্যুকর্নু বলেন, ‘যারা নতুন সরকারে যুক্ত হবেন, মন্ত্রিসভায় নিয়োগ পাবেন, তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার মতো “ব্যক্তিগত উচ্চাশা” আপাতত বিরত রাখতে হবে। কারণ, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর মেয়াদ শেষ হতে আরও ১৮ মাস বাকি। এর মাঝে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা চাঙ্গা করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই ফের পার্লামেন্টে আস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে হবে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর এই ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহযোগীকে। আর সেই পার্লামেন্টেই তার দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগে একাধিকবার জলঘোলা করায় ম্যাক্রোঁর জনপ্রিয়তাও ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সম্প্রতি এক জরিপে দেখা যায়, দেশজুড়ে ম্যাক্রোঁর জনপ্রিয়তা কেবল ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে জনসমর্থনে সবচেয়ে এগিয়ে ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি।
এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোও ম্যাক্রোঁবিরোধী প্রচারণায় নেমেছে। ন্যাশনাল র্যালির নেতা জর্ডান বারডেল্লা বলেন, ‘ল্যুকর্নুর পুনঃনিযুক্তি এক প্রকার “বাজে রসিকতা”। ম্যাক্রোঁর এই সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে, তিনি এখন রাজনীতি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।’
কাজেই সরকার গঠন, বাজেট পাস, সংসদের আস্থা অর্জন ও দেশের আর্থিক সংকট মোকাবেলাসহ বৈশ্বিক সমর্থন পেতে ল্যুকর্নুকে বেশ বেগ পেতে হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


