প্রতিদিন হাসপাতালের করিডোরে, জরুরি বিভাগের ব্যস্ততায় কিংবা গভীর রাতের নীরব ওয়ার্ডে অসুস্থ মানুষের পাশে সবচেয়ে বেশি সময় যাদের কাটে, তারা হলেন নার্স। চিকিৎসকের পরামর্শ বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে রোগীর শারীরিক ও মানসিক সেবায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এই স্বাস্থ্যকর্মীরা। অথচ তাদের অবদান অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়।
সেই নীরব সেবকদের সম্মান জানাতেই প্রতি বছর ১২ মে পালিত হয় আন্তর্জাতিক নার্স দিবস। আধুনিক নার্সিং পেশার পথিকৃৎ ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মদিনকে ঘিরেই দিবসটি পালনের প্রচলন শুরু হয়। ১৯৭৪ সালে আন্তর্জাতিক নার্স কাউন্সিল (আইসিএন) আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটির স্বীকৃতি দেয়।
ক্রিমিয়ার যুদ্ধে আহত সৈনিকদের সেবার মাধ্যমে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন। স্কুটারির ব্যারাক হাসপাতালে তিনি শুধু রোগীদের সেবা দেননি, বরং স্বাস্থ্যসেবায় পরিচ্ছন্নতা ও মানবিকতার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছিলেন। রাতের অন্ধকারে হাতে বাতি নিয়ে রোগীদের খোঁজ নেওয়ার কারণে তিনি পরিচিত হন ‘দ্য লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’ নামে।
প্রতি বছর আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষে আইসিএন বিভিন্ন প্রচার ও শিক্ষামূলক উপকরণ তৈরি ও বিতরণ করে। এসব উপকরণের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে নার্সদের নিবেদিত ও উদ্ভাবনী কাজের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। রোগীর স্বাস্থ্য উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার অগ্রগতিতেও নার্সদের অবদান যে অপরিহার্য, সেটিও এতে গুরুত্ব পায়।
এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ: জীবন রক্ষায় প্রয়োজন নার্সদের ক্ষমতায়ন।’ স্বাস্থ্যখাতে নার্সদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ করার আহ্বানই এবারের মূল বার্তা।
প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশে নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস। ঢাকা, নড়াইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ছাড়াও নানা আয়োজন রয়েছে দিনভর।


