ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ দারুণভাবে জ্বলে উঠলেও নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার লড়াইয়ের আগে তাদের রক্ষণভাগ নিয়ে শঙ্কা কাটছেই না।
টেক্সাসের আর্লিংটনে প্রথমার্ধে দুইবার সমতায় ফিরেছিল ক্রোয়েশিয়া, তবে শেষ পর্যন্ত টমাচ টুখেলের শিষ্যরা নিজেদের খেলার ধার বাড়িয়ে ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
অভিজ্ঞ কিন্তু কিছুটা বয়সের ভারে নুয়ে পড়া ক্রোয়াটদের বিপক্ষে এটি দারুণ পারফরম্যান্স হলেও ফ্রান্স, স্পেন কিংবা আর্জেন্টিনার মতো গতিময় ও বিধ্বংসী আক্রমণভাগের সামনে ইংল্যান্ডকে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে।
বোস্টনে ইংল্যান্ডের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ঘানা। আফ্রিকান এই দলটিকে হারাতে পারলে এবং অন্য ম্যাচে পানামা যদি ক্রোয়েশিয়াকে হারাতে ব্যর্থ হয়, তবে ‘এল’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২ বা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করবে থ্রি লায়নসরা।
আপাতদৃষ্টিতে সমস্যাটি খুব একটা স্পষ্ট নয়। বাছাইপর্বের আটটি ম্যাচের একটিতেও কোনো গোল হজম না করেই মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে তাদের বর্তমান রক্ষণভাগের দুটি বড় দুর্বলতা রয়েছে–অভিজ্ঞতার চরম অভাব এবং ইনজুরির উদ্বেগজনক রেকর্ড।
স্কাই স্পোর্টসের বিশ্লেষক ও ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল মনে করেন, ক্রোয়াটদের বিপক্ষে প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স দলটিকে কিছুটা চিন্তায় ফেলবে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এটি টমাসকে পরবর্তী ম্যাচগুলোর কৌশল পুনর্নির্ধারণ করতে বাধ্য করবে। রক্ষণভাগকে কীভাবে সাজানো যায় এবং তাদের কীভাবে বাড়তি সুরক্ষা দেওয়া যায়, তা নিয়ে তাকে ভিন্নভাবে ভাবতে হবে।’
কোচ টমাস টুখেল বড় টুর্নামেন্টের ব্যাপক অভিজ্ঞতা থাকা তিন খেলোয়াড়–ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড, লুক শ এবং হ্যারি ম্যাগুইয়ারকে স্কোয়াডের বাইরে রেখেই এখানে এসেছেন। এর ওপর মাঠে নামার আগেই ইনজুরির কারণে তিনো লিভরামেন্টোকে হারায় ইংল্যান্ড। তার বিকল্প হিসেবে নেওয়া ট্রেভোহ চালোবাহর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা মাত্র একটি।
সব মিলিয়ে ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে থাকা ৯ জন ডিফেন্ডারের সম্মিলিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা মাত্র ১৯১টি, যার মধ্যে ৯০টি ম্যাচ খেলেছেন একা জন স্টোনস। রক্ষণভাগের বাকি চারজনের মধ্যে তিনজনই–ইনজুরিপ্রবণ রিস জেমস, এজরি কোনসা এবং ২১ বছর বয়সী নিকো ও’রাইলি—ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপে অভিষেক করেছেন।
স্টোনস নাকি কোনসা-গুয়েহি জুটি?
মূল আলোচনাটি এখন জমছে ম্যানচেস্টার সিটির অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার জন স্টোনসকে নিয়ে। টুচেলের পছন্দের তালিকায় থাকা এজরি কোনসার জায়গায় মার্ক গুয়েহিকে কেন্দ্রীয় রক্ষণে আনা উচিত কি না, তা নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ। জার্মান কোচ স্টোনসের অভিজ্ঞতা ও শান্ত মেজাজকে বেশ মূল্যায়ন করেন, যদিও গত মৌসুমে সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগে মাত্র পাঁচটি ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি।
তবে ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার ক্রিস সাটন মনে করেন, টুচেলের উচিত স্টোনসকে বসিয়ে কোনসা ও গুয়েহির জুটি তৈরি করা। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশন সামলানোর ক্ষেত্রে জন স্টোনসের চেয়ে কোনসা ও গুয়েহির দক্ষতা অনেক ভালো। বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে এমন মুহূর্ত আসবে যখন তাদের একা একাই রক্ষণ সামলাতে হবে।’
শঙ্কা ওড়ালেন ওয়াটকিন্স
অবশ্য ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড অলি ওয়াটকিন্স এই বিষয়টি নিয়ে অতটা চিন্তিত নন। কানসাস সিটিতে দলের অনুশীলন ক্যাম্পে সাংবাদিকদের আলাপকালে তিনি রক্ষণভাগের সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘মানুষ সব সময়ই সমালোচনা করার চেষ্টা করবে এবং খুঁত ধরার জন্য নির্দিষ্ট কিছু জায়গা খুঁজে নেবে। তবে দিনশেষে রক্ষণভাগে আমাদের বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে যারা বড় বড় ট্রফি জিতেছে। হয়তো গত ম্যাচে আমরা শুরুতে কিছুটা নার্ভাস ছিলাম, তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ক্রোয়েশিয়াকে পাত্তাই দিইনি।’


