‘অনির্দিষ্টকালের’ সড়ক অবরোধ ও ‘অশান্ত’ খাগড়াছড়ি পরিস্থিতির জেরে পর্যটকদের জন্য বুধবার থেকে ‘কেওক্রাডং পর্যটন’ কেন্দ্র খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও তা থেকে সরে এসেছে বান্দরবান জেলা প্রশাসন। তবে, এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন কারণ জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, খাগড়াছড়ির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরাজমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার বিকালে সিদ্ধান্ত স্থগিতের কথা জানান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি।
বান্দরবান জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, বগা লেক থেকে উন্নতমানের পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হলেও সত্যিকার অর্থে কেওক্রাডং চূড়া একটি দুর্গম এলাকা। এখানে তেমন আবাসন ও খাওয়ার ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। এই দিক বিবেচনায় নিয়ে সকল স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে সেখানকার সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে খুব শিগগিরই নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।
পর্যটকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার স্বার্থেই তারিখ পেছানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ কারণে বুধবারের কেওক্রাডংয়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। পরে আবার সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
খাগড়াছড়িতে স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষণের বিচারের দাবিতে ডাকা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে সহিংসতায় ‘তিন পাহাড়ি নিহত ও পাহাড়িদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের’ প্রতিবাদে রোববার রাতে ডাকা হয়েছে ‘অনির্দিষ্টকালের’ সড়ক অবরোধ।
এর আগে, ২০২২ সালের ২০ অক্টোবর রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসন। পরে ধাপে ধাপে কয়েকটি এলাকায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। এরই মধ্যে, চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যটকদের জন্য রোয়াংছড়ির দেবতাখুমও খুলে দেওয়া হয়েছে।


