ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তীব্র যানজটে আটকে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা গেলেন হৃদরোগে আক্রান্ত আমিরুন্নেছা। প্রায় চার ঘণ্টা আটকে থাকার পর শনিবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
আমিরুন্নেছা লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রাণভগবতীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
স্বজন তারেক আল হাসান জানান, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে হৃদ্রোগে আক্রান্ত আমিরুন্নেছাকে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার উদ্দেশে নেওয়া হয়। রাত ১১টার দিকে দাউদকান্দিতে পৌঁছালে যানজটে আটকা পড়ে অ্যাম্বুলেন্সটি। ভোর সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের আষাঢ়িয়ারচর থেকে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া যানজট শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্তও কাটেনি।
আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজের ঢাকা অভিমুখী লেনে বড় গর্ত হওয়ায় শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে সংস্কারকাজ শুরু করে সড়ক বিভাগ। একটি লেন বন্ধ রেখে অন্য লেন দিয়ে যান চলাচল করায় যানজট বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর যানবাহনের চাপ বাড়লে যানজট ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
যানজটে আটকে থাকা যাত্রীরা জানান, প্রচণ্ড গরমে নারী, শিশু ও বয়স্করা দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই খাবার ও পানির সংকটে পড়েছেন।
চট্টগ্রাম থেকে বাগেরহাটগামী আবু তাহের জানান, রাত আড়াইটায় ইলিয়টগঞ্জে আটকা পড়েন। সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আমিরাবাদে পৌঁছান।
কুমিল্লা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়ে ১২ ঘণ্টা পর ঢাকায় পৌঁছান নুরে আঁখি। তিনি বলেন, ‘সংস্কারকাজ শুরুর আগে যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। প্রচণ্ড গরমে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা বাসে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।’
ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘আষাঢ়িয়ারচরে ঢাকামুখী লেনে সংস্কারকাজের কারণে যানজট হয়েছে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে।’
যানজটে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনও আটকা পড়েছে। কুমিল্লা অংশে যানজটের কারণে শুক্রবার ও শনিবার অন্তত পাঁচজন প্রবাসীর ফ্লাইট মিস হয়েছে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক ফারুক হোসেন জানান, প্রবাসযাত্রীদের বিকল্প পথে মহাসড়ক পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশের দুটি দল হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে যানজট নিরসনে কাজ করছিল বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।


