সাবেক সংসদ সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২০০৭ সালে এক-এগারোর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার পেছনে তার ভূমিকা অন্যতম প্রধান ছিল বলে মনে করা হয়। তখন তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি।
সেই সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে বিএনপির তখনকার সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করে শারীরিক নির্যাতনের পেছনে তিনি দায়ী বলে বিএনপির অনেকে অভিযোগ করে থাকেন। আত্মীয়তার সম্পর্কে তিনি খালেদা জিয়ার ছোট ভাইয়ের ভায়রা।
সোমবার মধ্যরাতে ডিবি পুলিশ প্রধান শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বারিধারা ডিওএইচএসে অভিযান চালিয়ে মাসুদ উদ্দিনকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। পরে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
ডিবি প্রধান জানান, তার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। যাচাই-বাছাই চলছে, যেকোন একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। চব্বিশের জুলাই আগস্টের আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তার বিরুদ্ধে দায়ের মামলাগুলো হয়েছে ফেনীতে, এর মধ্যে মানব পাচারের অভিযোগে করা মামলাও আছে।
লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় সেলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন। তবে ২০০৮ সালে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়। সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পরেও আওয়ামী লীগ সরকার তার চাকরির মেয়াদ একাধিকবার বৃদ্ধি করে।
হাইকমিশনারের চাকরি শেষে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফেরার পর ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টি থেকে ফেনী-৩ আসনে অংশ নিয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।


