সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও মধ্যপ্রদেশের সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণও হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, টানা কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরমের পর বুধবার রাজধানীতে মেঘলা আকাশ, দমকা হাওয়ার সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় ঢাকার আকাশ মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে। দুপুর ১২টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৯২ শতাংশ। এর আগে ছয় ঘণ্টায় রাজধানীতে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, বুধবার ও বৃহস্পতিবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি জানান, শুক্রবারও বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে মাঝারি ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শনিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। রোববারও বৃষ্টি থাকবে, তবে পাঁচ দিনের শেষে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমে আসতে পারে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্য বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পৃথক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাময়িক জলাবদ্ধতা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৩১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বান্দরবানে। এছাড়া রাঙামাটিতে ২৮৭ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামে ২৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।


